বিডিআর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের যোগসূত্রের অভিযোগ
২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র ছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকার কারণেই দীর্ঘ ১৭ বছর সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত জনগণের সামনে উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ হওয়া বীর সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিপ্রতীকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর বক্তব্য প্রদান করেন।
সেনাবাহিনীকে সামরিকভাবে দুর্বল করার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত
জামায়াত প্রধান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অভিযোগ করেন যে, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের নামে যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তা কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বিষয় ছিল না। মূলত এটি ছিল দেশপ্রেমিক এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সামরিকভাবে দুর্বল ও পঙ্গু করে দেওয়ার এক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “ঐ কালরাতে যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাদের আগে থেকেই চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট করা হয়েছিল।” এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যানের চরম প্রতিফলন।
তৎকালীন বিডিআর এবং বর্তমান বিজিবি সদর দফতরে সংঘটিত ওই ন্যক্কারজনক বিদ্রোহের সময় তৎকালীন সরকারের ভূমিকা এবং নীরবতা নিয়েও চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তির ওপর যে মারাত্মক আঘাত হানা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতাকে চিরতরে বিনষ্ট করে দেওয়া। এর ফলে সার্বিকভাবে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এক নজিরবিহীন ও চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
নতুন সরকারের দায়িত্ব ও পুনঃতদন্তের জোরালো দাবি
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি-র ওপর অর্পিত বিশাল গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন রয়েছে। ফলে এই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ষড়যন্ত্রের প্রকৃত নেপথ্য কারিগরদের চিহ্নিত করা এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শতভাগ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব। যদি তারা এই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা হবে তাদের শাসনকালের এক চরম এবং অপূরণীয় ব্যর্থতা।
তিনি অনতিবিলম্বে পিলখানা ট্র্যাজেডির একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক কমিশনের মাধ্যমে পুনরায় গভীর তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। একইসাথে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থেকে যারা নীল নকশা সাজিয়েছিল এবং কলকাঠি নেড়েছিল, তাদের সকলকে শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক মানের ন্যায়বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানান।
অপূর্ণ বিচার ও অব্যাহত রাজনৈতিক বিতর্ক
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী পিলখানায় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তরে সংঘটিত কলঙ্কজনক বিদ্রোহে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪ জন নিরীহ মানুষ অত্যন্ত নৃসংসভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারা ভূমিকা রেখেছিল এবং কারা কলকাঠি নেড়েছিল, সেই সম্পর্কিত রহস্য আজ পর্যন্ত পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। এর ফলে দেশজুড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী জনগণের মাঝে এখনো চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং নানামুখী বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো প্রকৃত ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #পিলখানা #বিচার