জনসমুদ্রে গণসংবর্ধনা: সাধারণ চেয়ারে বসে চমক তারেক রহমানের

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে লাখ লাখ মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ বিনয় ও সাদামাটা আচরণের মাধ্যমে উপস্থিত সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কাড়েন। বিশেষ রাজকীয় আয়োজন এড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এই বিশেষ দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি করে।

রাজকীয় ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান ও সাধারণ চেয়ারে অবস্থান

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত এই বিশাল সংবর্ধনা কর্মসূচিতে তারেক রহমানের জন্য মঞ্চে আলাদা ও বিশেষভাবে সজ্জিত একটি রাজকীয় আসন রাখা হয়েছিল। আরামদায়ক সেই আসনে সাদা কাপড়ে মোড়ানো রাজকীয় ব্যবস্থা থাকলেও তিনি সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। রাজকীয় আসনের পরিবর্তে তিনি অত্যন্ত সাধারণ একটি চেয়ার আনার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) একজন সদস্য পাশ থেকে একটি সাধারণ চেয়ার নিয়ে এলে তিনি সেখানেই আসন গ্রহণ করেন। এ সময় পাশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা তার এই সাধারণ জীবনযাপনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল: জনতার ঢল ও ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা

বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হয়ে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানকে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক ফুল, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তাকে উষ্ণ সম্ভাষণ জানান। রাজপথজুড়ে ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। তারেক রহমানও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার সম্ভাষণের জবাব দেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

মঞ্চের সার্বিক পরিস্থিতি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতি

সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান অবস্থানকালে তার ঠিক পাশেই অবস্থান করছিলেন বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সময়ে মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে তারেক রহমানের বাম পাশে উপবিষ্ট ছিলেন স্থায়ী কমিটির অপর জ্যেষ্ঠ সদস্য মির্জা আব্বাস। সকল শীর্ষ নেতা ও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এ যেন এক অভূতপূর্ব মহাসমাবেশে রূপ নেয়। বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানানোর পর উপস্থিত সকলে তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা ও জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #তারেক_রহমান #বিএনপি #পূর্বাচল