ভোটার স্থানান্তরের অস্বাভাবিক হার নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা এবং সমগ্র দেশের বহু জেলা ও অঞ্চলে বিগত এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে অভূতপূর্ব ও বিপুল সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরিত করার চলমান প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিএনপি। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান সংবাদমাধ্যমের সামনে এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, দেশের বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট ও কৌশলগত এলাকায় বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক অন্তর্ভুক্ত ঘটেছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।

ইসির পরিসংখ্যানে অসন্তোষ এবং আসনভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যের জোরালো দাবি

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা অতীত কোনো অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ব্যাপক ও অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশনের ঘটনা কখনোই দেখতে পাওয়া যায়নি।” যদিও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এই ভোটার স্থানান্তরের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয় এবং দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংসদীয় আসনে দু-তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর ঘটে নাই, তবুও তাদের প্রদত্ত এই প্রথাগত ব্যাখ্যায় ও পরিসংখ্যানে দল হিসেবে বিএনপি কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে যেসব তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে সত্যতার অভাব রয়েছে এবং সেগুলো বস্তুনিশ যৌথ তথ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট মহল অসত্য তথ্য পরিবেশন করে মূল পরিস্থিতি আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাস্তবে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি সংখ্যক ভোটার মাইগ্রেশন সংঘটিত হয়েছে, যা একটি অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়মের একদম পরিপন্থী। তাই এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনয়ন এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে প্রতিটি আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

ভুয়া ভোটার, হোল্ডিং জালিয়াতি ও প্রতারণার মারাত্মক সব অভিযোগ

ভোটার তালিকার এই মারাত্মক অমিল ও অনিয়ম বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান জানান যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন বহু অবিশ্বাস্য হোল্ডিং নম্বরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে চার থেকে পাঁচজনের বেশি মানুষ বসবাস করা সম্ভব নয়, অথচ সেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় অদ্ভূতভাবে ২০ থেকে ৩০ জন নতুন মানুষের নাম ভোটার হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। অসাধু চক্র ও কিছু দুষ্কৃতকারী নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ধরনের অনৈতিক জালিয়াতি এবং মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে।

তিনি ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন যে, একটি অসাধু চক্র সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি এবং বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ও প্রতারণা সংঘটিত করেছে। মূলত এ ধরনের জালিয়াতির ওপর ভর করেই অসংখ্য ভুয়া ভোটার তৈরি করা হচ্ছে অথবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভোটার স্থানান্তর দেখানো হচ্ছে। এই ধরনের অসাধু অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তারা মনে করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ #ভোটার_তালিকা