ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্ধারিত জমি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শুরুতে কৃষি বিভাগ এই জমিকে ‘কৃষিজমি’ উল্লেখ করে আপত্তি জানালেও, পরে ‘চাপের মুখে’ অনাপত্তিপত্র দিতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার, যিনি ময়মনসিংহ-১১ আসনের (ভালুকা) সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। কৃষি বিভাগের আপত্তির ২৭ দিন পরেই এই অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কাগজে-কলমে উদ্যোক্তা হলেও, স্থানীয়দের কাছে এটি সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। তাসলিমা আক্তার ভালুকা উপজেলার নন্দীপাড়া ও ঝালপাজা মৌজার ১৭৩ দশমিক ১৩ একর জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনাপত্তিপত্রের আবেদন করেন। জমির প্রকৃতি যাচাই ও অনাপত্তিপত্র বিতর্ক ভালুকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির প্রকৃতি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নন্দীপাড়া ও ঝালপাজা মৌজার জমিতে স্থানীয় কৃষকেরা বহু বছর ধরে দুই থেকে তিন ফসল ফলিয়ে আসছেন এবং মানুষের বসতবাড়িও রয়েছে। ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া যাচাই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬৭ দশমিক ৮৪ একর জমির মধ্যে ৬৩ একর এক ফসলি, যেখানে বোরো ধান চাষ হয়। সেখানে স্থাপনা নির্মাণ হলে ধানের উৎপাদন হ্রাস পাবে। তবে এর এক মাস পেরোনোর আগেই ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। এই অনাপত্তিপত্রে বলা হয়, প্রস্তাবিত ১৭৩ দশমিক ১৩ একর জমির মধ্যে ১৪১ দশমিক ৯৭ একর অকৃষি জমি এবং ৩১ দশমিক ১৬ একর এক ফসলি জমি। এতে উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কৃষিজমিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান অভিযোগ করেন যে, পুরো জমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রত্যয়ন দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। সংসদ সদস্যের পক্ষ, প্রশাসন ও নিজের দপ্তরের কর্মকর্তাদের চাপের কারণে তাঁকে অনাপত্তি দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হকও স্বীকার করেন যে, কৃষি কর্মকর্তা অনাপত্তিপত্র দিতে না চাইলেও স্থানীয় ও ‘ওপর মহলের’ চাপে অনাপত্তি দিতে হয়েছে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত জমির প্রায় ১৪০ একরের মতো চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমি। এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও আইনি সীমাবদ্ধতা ঝালপাজা ও নন্দীপাড়া মৌজার কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধের দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় কৃষকেরা। তারা জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কৃষকদের বাধ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত করে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে বলেন, তারা এই জমিতে ফসল ফলান এবং তাদের বসতবাড়িও এখানে। ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন’ অনুযায়ী, ফসলি জমি নষ্ট করা এবং ফসলি জমিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই আইনে দুই বা ততোধিক ফসলি জমিতে অকৃষি কাজ নিষিদ্ধ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ময়মনসিংহে আবাদি জমি কমেছে, যার মধ্যে ভালুকা শীর্ষে। সংসদ সদস্য ও ইউএনওর বক্তব্য সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ কৃষি বিভাগের তথ্য সঠিক নয় দাবি করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ডিজিটাল ম্যাপ ও গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে জমি পরিমাপ করছে। তিনি দাবি করেন, ওই ১৭৩ একর জমির সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ এক ফসলি জমি। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.