নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে স্বাধীনতার অর্জন মারাত্মক হুমকিতে পড়তে পারে: বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা
রাজধানীর ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত ভাষানটেক ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আয়োজিত এক ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা ও সাবেক সেনাসদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা। উক্ত অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি আগামী সাধারণ নির্বাচনকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, ঐতিহাসিক এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। রাজনৈতিক এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন এই জাতীয় নির্বাচনে জনগণ যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে দেশের দীর্ঘদিনের অর্জিত লাল-সবুজ পতাকার স্বাধীনতা এবং সার্বিক সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের বর্তমান চলমান রাজনৈতিক সংকট
সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ অতীতেও একাধিকবার অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সংকটময় দুঃসময় অতিক্রম করেছে। বর্তমানে দেশ আরও একটি অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকটময় পথ অতিক্রম করছে। তিনি অতীতের ঘটনাবলী স্মরণ করে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, “১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ যদি শত্রু মুক্ত না হতো, তবে আমরা এখনো পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতাম।”
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আরো যোগ করে বলেন যে, ১৯৭৫ পরবর্তী ঐতিহাসিক জাতীয় প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো এবং পরবর্তীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি শক্ত হাতে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হাল না ধরতেন, তবে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার ধারা তখনই হয়তো চিরতরে সমাপ্ত হয়ে যেত। তাই তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে এসেও যদি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আবার কোনো ভুল পদক্ষেপ বা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে সামগ্রিকভাবে প্রিয় মাতৃভূমি উন্নয়নের পথ থেকে বহুদূর পিছিয়ে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
জাতীয় নির্বাচন ভন্ডুল করার গভীর চক্রান্ত ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনগণ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় প্রবীণ এই নেতা রাজনৈতিক ময়দানে চলমান নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক গভীর চক্রান্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যেন সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারার নির্বাচনটি কোনোভাবেই অনুষ্ঠিত হতে না পারে।
তার সরাসরি অভিযোগ তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, সাবেক স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার শাসনকাল থেকেই এই অপকৌশল ও সুগভীর ষড়যন্ত্রের সূচনা ঘটেছে। তিনি সর্বস্তরের সচেতন জনতার প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করার স্বার্থে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রত্যক্ষ করা। তার এই সময়োপযোগী বক্তব্য শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অগণিত স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ সমস্বরে তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী প্রচারণা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক রাজনৈতিক সক্রিয়তা
উক্ত মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচিতে সাবেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তারা স্থানীয় প্রতিটি এলাকায় ঘুরে সাধারণ জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার মানসিকতা প্রকাশ করেন। নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ