নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারে বৈষম্যের অভিযোগ ও ইসির নতুন বিধিমালা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণায় মাইক ও শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট ও নতুন নিবন্ধিত দলগুলোর প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দ্রুত জরিমানা করা হলেও, দুটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রে ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে অনেক প্রার্থীই তা অমান্য করছেন।

প্রধান দলগুলোর বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ

বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি ভোর ৪টায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। ওই প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত মাইক ব্যবহারের পাশাপাশি গভীর রাতে মাইক বাজিয়ে চরম আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় তারেক রহমান কিংবা স্থানীয় অন্য কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা আরোপ করেনি।

একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল মাঠে নির্বাচনী বক্তব্য দেন। সেখানেও নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার এবং রাত ৮টার নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার অভিযোগ ওঠে। তবে এ ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট আয়োজক বা প্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ছোট দলের প্রার্থীকে জরিমানা ও সমন্বয়হীনতা

অন্যদিকে, গত বুধবার রাত ৮টার পর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বুড়াবুড়ি বাজার এলাকায় নির্বাচনী পথসভা করার অপরাধে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী বিধিমালার ১৭(২) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এই দণ্ড প্রদান করেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির নেতৃত্ব দাবি করে যে, “ছোট দলগুলোর ওপর আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হলেও বড় দলগুলোর প্রতিনিয়ত নিয়ম ভাঙার দৃশ্য কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে।”

এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, স্থানীয়ভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না থাকায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইসি সচিব বলেন, “সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

আচরণ বিধিমালা সংশোধন ও নতুন নির্দেশিকা জারি

উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে। সংশোধিত বিধিমালার অধীনে মাইক ব্যবহারের সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে একজন প্রার্থী তার একক জনসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রচারণার সময়সীমা দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কঠোরভাবে বহাল থাকবে এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের নিচে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার স্লিপের সর্বোচ্চ আকার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

#নির্বাচন #রাজনীতি #বাংলাদেশ #ইসি