মায়ের দাফন শেষে বিমর্ষ ও নিঃশব্দ অবস্থায় বাসায় ফিরলেন তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের শেষ বিদায়ের পর গভীর শোক, বিষণ্নতা ও এক নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন। সারাদিনের দীর্ঘ শোকের আবহ, জানাজা, দাফন এবং সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত শান্ত, সংযত ও গভীর বিমর্ষ অবস্থায় নিজের বাসভবনে ফিরেছেন। পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিনভর চরম মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে তিনি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, একমাত্র কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের নিয়ে গুলশান-এর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে প্রবেশ করেন। প্রিয় অভিভাবককে হারানোর বেদনা এবং শেষ মুহূর্তের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও নীরব দেখা যায়।
দাফন কেন্দ্রিক সার্বিক পরিবেশ ও শোকার্ত মানুষের আবেগ
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানানোর পুরো প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান এবং এর আশেপাশের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে দিনভর এক ভারাক্রান্ত ও স্তব্ধ পরিবেশ বিরাজ করছিল। দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্তের প্রান্তিক এলাকা থেকে ধেয়ে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকার্ত মানুষের এক বিরাট মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। উপস্থিত জনতা তাদের প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও, অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে একাধিক স্থানে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতে দেখা যায়। শেষ বিদায়ের পরম আবেগঘন মুহূর্তে প্রিয় নেত্রীকে হারানোর কষ্টে উপস্থিত বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ নিজেদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অঝোর কান্না, আন্তরিক দোয়া এবং নীরব প্রার্থনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। এই আবেগঘন পরিবেশে পুরো উপস্থিত জনতা গভীর শোক প্রকাশ করে।
ব্যক্তিগত বেদনা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রত্যাশা
দাফন পর্বের চূড়ান্ত ইতি ঘটার পর অত্যন্ত শোকাহত ও নীরব পরিবেশে তারেক রহমান নিজের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দিনভর মাতৃশোকে ভারাক্রান্ত থাকা এবং শেষ বিদায়ের কঠিন দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে বিমর্ষ দেখা যায়। প্রিয় মায়ের বিদায়ে তার ব্যক্তিগত অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর বেদনা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে, যা উপস্থিত জনতাকেও দারুণভাবে স্পর্শ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের মতে, এই কঠিন জাতীয় ও ব্যক্তিগত শোকের সময় পার করার পর বিএনপি তাদের দলের ভবিষ্যত পথচলা পুনর্গঠনে আরও সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাতৃশোকে ভেঙে পড়লেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুনরায় জোরালোভাবে নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন দলীয় মাঠপর্যায়ের সর্বস্তরের কর্মীরা। এই কঠিন মুহূর্তে দেশজুড়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের ঐক্যের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিএনপি