খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন: জনসমুদ্রে পরিণত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-এর জানাজাস্থলে ভোর থেকেই সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। পুরো সংসদ ভবন এলাকা এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে মানুষের ভিড়ে চলাচলের পথ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল থেকে বাসভবন ও শেষ শ্রদ্ধা
এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে রাজকীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে বের করা হয়। প্রথমে তার দীর্ঘদিন অবস্থান করা গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় মরদেহ নেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়। মরদেহ বহনকারী বিশেষ গাড়িটি সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে গুলশান-২-এর নর্থ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত তারেক রহমানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে পৌঁছায়। কফিন বাসভবনে পৌঁছানোর পর এক অতিশয় বিষাদময় ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে মরহুমার কফিনের পাশে বেশ কিছু সময় নীরবে অবস্থান করেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি গভীর পরম শ্রদ্ধায় মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। শুভানুধ্যায়ী ও পরিবারের সদস্যদের শেষ শ্রদ্ধার পর মরদেহবহনকারী গাড়িবহরটি নির্ধারিত জানাজাস্থল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে জনতার ঢল
সারাদেশের মতো রাজধানীতেও জেঁকে বসেছে কনকনে হাড়কাঁপানো শীত। ভোর থেকেই হিমেল হাওয়ার সঙ্গে দেখা গেছে ঘন কুয়াশা, এমনকি দেশের অনেক অঞ্চলে দেখা মেলেনি সূর্যের মুখও। তবে চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র শীতও সাধারণ মানুষের আবেগ এবং ভালোবাসার বাঁধ ভাঙা জোয়ারকে কোনোভাবে আটকে রাখতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্ত এলাকা থেকে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের রাস্তায় উপস্থিত হয়েছেন। মানিকগঞ্জ সাটুরিয়া থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব হাজী হাসানুর রহমান আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “খালেদা জিয়া একজন সফল ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন, কিন্তু তিনি দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কখনও রাজনীতি করেননি। উনার মুখের ভাষা এবং অন্তরের অনুভূতি সর্বদা এক ও অভিন্ন ছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি সারাজীবন দলটির প্রতীকে আস্থা রেখে এসেছেন।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অশ্রুসজল বিদায়
বুধবার পুরো সংসদ ভবন এলাকা ও ঢাকা-র রাজপথ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। লাখ লাখ মানুষ অশ্রুসজল নয়নে তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। দেশের জন্য তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আপসহীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের মনে অমর হয়ে থাকবে। উপস্থিত জনতা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ও চোখ ভরা জলে বিদায় জানান গণমানুষের এই মহান নেত্রীকে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ