মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে জড়িত পক্ষ দুটির একটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী এবং অন্য পক্ষটির নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহর অনুসারী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান। এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিদ্যমান।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মীর সরফত আলীর অনুসারীদের মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে আনন্দমিছিল বের করার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। তারা সকাল থেকেই জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় হাফিজুল ইসলাম খানের কয়েকজন অনুসারী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ উভয় পক্ষের ৮-১০ জন আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না বিনতে তাহসিন জানান, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চারজন রোগী মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে মাথায় আঘাতের কারণে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মীর সরফত আলীর সমর্থক কাজী শাহেদ দাবি করেন, গুরুতর আহত সুমনকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওসি আরও দাবি করেন যে, এই ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি এবং কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের নেতৃত্ব নিয়ে মীর সরফত আলী এবং সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের মধ্যে পূর্ববিরোধ ছিল। গত সংসদ নির্বাচনে সরফত আলী দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ মো. আবদুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকে এই দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল আরও বৃদ্ধি পায় এবং তারা দলীয় যেকোনো কর্মসূচি বিভক্ত হয়ে পালন করে আসছিলেন।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মীর সরফত আলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার সমর্থক কাজী শাহেদ দাবি করেন, তাদের কর্মসূচির সময় হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে সুমনসহ ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের লোকজন বাজারে যাওয়ার সময় মীর সরফত আলীর অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি এবং বাজারের দোকানদার তুহিনসহ তাদের পক্ষের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ মীমাংসা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।