খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিপুল মানুষের সমাগম
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে এক চরম শোকের ছায়া। রাজধানী ঢাকা-র ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের বিস্তৃত এলাকা এক সুবিশাল জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দলীয় নেতাকর্মী, হাজারো সমর্থক ও সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে অত্যন্ত আবেগঘন ও ভারাক্রান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং তার বিদায়ে অংশ নিতে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক অনন্য রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।
বক্তব্যের সাউন্ডট্র্যাক ও স্মৃতির আবেগঘন আবোহ সৃষ্টি
পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকা জুড়ে বিশেষ সাউন্ড সিস্টেম ও মাইকে ধারাবাহিকভাবে বাজানো হচ্ছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ে খালেদা জিয়ার দেওয়া চিরস্মরণীয় বক্তব্যের অডিও রেকর্ড। প্রিয় নেত্রীর পরিচিত কণ্ঠের আবেগীয় এসব ভাষণ শুনে উপস্থিত অগণিত মানুষ নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। সমবেত জনতার মধ্যে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ পরম শ্রদ্ধা ও নিস্তব্ধতায় নিরবে দাঁড়িয়ে শুনছেন তার শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাগুলো। বিশেষ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার নিয়ে তার সাহসী কথাগুলো এই মুহূর্তে উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।
প্রচারিত ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল: “দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এই দেশ, দেশের মাটি ও মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি কখনোই দেশের বাইরে যাবো না।” এই ঐতিহাসিক ও আন্তরিক উক্তিটি মাইকে বাজার সাথে সাথে সমবেত মানুষের মধ্যে এক কান্নার রোল পড়ে যায়। এছাড়া তার আরও একটি আবেগপূর্ণ বাণী ধ্বনিত হয়, “আমি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো, এই দেশের সাধারণ মানুষকে কখনো ছেড়ে যাবো না।” জনতা আবেগ প্লাবিত কণ্ঠে বলে উঠেন যে, প্রিয় দেশনেত্রী দেশবাসীকে ছেড়ে যাননি, দেশবাসীও তাকে কখনোই তাদের স্মৃতি থেকে আলাদা করেনি।
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক বার্তা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
মাইকে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারিত হলে উপস্থিত জনতার মধ্যে গভীর আলোচনার সৃষ্টি হয়। একটি বিশেষ বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বমঞ্চে সকলকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। তবে, কেউ যদি বন্ধু বেশে আমাদের প্রভু হতে চায়, সেটা আমরা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবো না। আমরা দেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেছি। এখন যদি মাতৃভূমি রক্ষা করার জন্য আবার যুদ্ধ করতে হয়, তবে আমরা তা-ই করবো।” এই শক্তিশালী বার্তাটি শুনে উপস্থিত জনতার মাঝে বিভিন্ন দলবদ্ধ আলোচনা শুরু হয়, যেখানে অনেকেই প্রতিবেশী দেশ ভারত-এর সাথে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
তিনি আরও দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, “দেশ বিক্রি করা চলবে না, আমাদের প্রিয় দেশকে রক্ষা করতেই হবে ইনশাআল্লাহ।” এই কথাগুলো দেশের মানুষের জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ ও স্বাধিকার রক্ষায় একটি নীতিগত অবস্থান হিসেবে বারবার মানুষের মননে ফিরে আসছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশেপাশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের সাথে সততার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে গোটা বাংলাদেশ আজ গভীরভাবে শোকাহত।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #খালেদা_জিয়া #বিএনপি #সংবাদ