যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সাবেক নেতা কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি এই সিদ্ধান্ত জানালেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি পদ ছাড়ার কথা জানান। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করার পর তিনি এই ঘোষণা দিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্টারমার তাঁর ফেসবুক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, গ্রীষ্মকালে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন এবং এখন তাঁর কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে। তিনি হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে ‘সম্মান ও সৌভাগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমপি পদ ছাড়লেও স্টারমার রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। তিনি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ছাড়ার পর তিনি বৈশ্বিক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেবেন। আগামী দিনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির মতো বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতা মোকাবিলায় তাঁর কাজ অব্যাহত থাকবে। তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও লেবার সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক উত্থান ও প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান
পেশায় আইনজীবী স্টারমার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ডিরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসন থেকে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল তিনি লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী চার বছরে তিনি দলকে পুনর্গঠিত করেন এবং ২০২৪ সালের ৪ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ৪০০টিরও বেশি আসনে জয়ী করে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটান। পরদিন, ৫ জুলাই, তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্টারমার বলেছেন যে, ২০১৯ সালের বিপর্যয়কর অবস্থান থেকে লেবার পার্টিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে ২০২৪ সালে বিপুল জয় এনে দেওয়ার জন্য তিনি গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, সরকারি সেবায় বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিশু দারিদ্র্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ধাক্কা এবং দলের অভ্যন্তরে চাপের মুখে গত ২২ জুন স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর দলীয় প্রক্রিয়া শেষে অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন নেতা নির্বাচিত হলে গত ২০ জুলাই স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ত্যাগ করেন। আজকের ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর ১১ বছরের সংসদীয় ক্যারিয়ারের ইতি ঘটলো।