রাজনীতিতে নতুন দল বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আত্মপ্রকাশ
ঢাকা-র জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি)। ‘জান দেবো, জুলাই দেবো না’ শীর্ষক দূরদর্শী ও উদ্দীপনামূলক স্লোগানকে সামনে রেখে দলটি দেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করল। সংগঠনটি ইনসাফ, নৈতিকতা ও মানবিক মূলবোধের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এক নতুন বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। ১৭ দফা সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক এবং বৈদেশিক আধিপত্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনই এই নবগঠিত রাজনৈতিক শক্তির প্রধান লক্ষ্য।
নতুন এই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং দলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন কবির হোসেন, এমদাদ বাবু ও আল আমিন। নতুন দলের পরিচালনা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী নীতি-নির্ধারণী উপদেষ্টা পরিষদ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশবাসীর সামনে উন্মোচন করা হবে।
সংবিধান সংস্কার ও শাসনব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশ আজাদ পার্টি তাদের ঘোষণাপত্রে বিদ্যমান শাসনকাঠামো এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা ১৯৭২ সালের পুরনো সংবিধান সংস্কার করে একটি জনমুখী আধুনিক সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা চালুর পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা এবং অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দলটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈদেশিক প্রভাবমুক্ত অবস্থান গ্রহণের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। যেকোনো ধরনের বৈদেশিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার জোর দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করতে একটি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং দেশের সাধারণ তরুণ নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রবর্তনের একটি বৈপ্লবিক ও সময়োপযোগী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ পরিকল্পনা
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে একটি সুদমুক্ত ও অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থনৈতিক মডেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। বেকার সমস্যা সমাধানে তরুণ উদ্যোক্তাদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি জোরদার করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রগতির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদেশে সুসংগঠিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। নারী উন্নয়ন, যৌতুক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এ নবগঠিত রাজনৈতিক দল।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #আজাদ_পার্টি