নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগে রিজওয়ানা ও খলিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে যে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে তা সাবেক উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট ও প্রমাণিত হয়েছে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, “সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি নিজেই রাজসাক্ষী হয়ে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার কার যোগসাজশে জামায়াতে ইসলামী-কে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল তা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি। রিজওয়ানা হাসান ছাড়াও তৎকালীন সরকারের আর কোন কোন অংশ এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়। জামায়াত নেতাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি অনুযায়ী উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও তিনি আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন। তাহের দাবি করেন, “তিনি সরকার ও নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করে বিএনপি-কে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন এবং তারই পুরস্কার হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর পেয়েছেন।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার স্বার্থে খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার তাগিদ দেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হামলা ও নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামী বেশি জনসমর্থন বা ভোট পেয়েছে, সেখানে চরম আক্রমণাত্মক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অফিসে হামলা এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো বিগত স্বৈরাচারী শাসনের হিংসাত্মক চরিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সংস্কার এবং সংসদের ভূমিকা
সংবিধান ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আবদুল্লাহ তাহের জানান, সরকার রিটের অজুহাতে আদালতের কাঁধে ভর দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ বিলম্বিত করছে। সংসদ চালুর বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জুলাই সনদের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে। একইসঙ্গে সংসদীয় কাঠামোর অধীনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে জামায়াত আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পর্যালোচনা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী সহিংস রাজপথের রাজনীতির বিপরীতে অহিংস আন্দোলন এবং সংসদীয় রাজনীতির মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায়। তবে সরকার ও প্রশাসন যদি কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর ও সুদৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মিঞা গোলাম পরওয়ারসহ ঢাকা-১২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং আইনজীবী শিশির মনিরসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #জামায়াত