প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান হাবিবুর রশিদ হাবিবের

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব আগামী দিনে হানাহানি ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা, গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি ৮৬ দিন ডিবির রিমান্ডে কাটিয়েছি, শতাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছি এবং সাতবার কারাগারে গিয়েছি। তবে এই সব তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আমরা কোনো প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করাই তার প্রধান লক্ষ্য।

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন ও এলাকার উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি

হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বলেন, তিনি এই এলাকারই সন্তান এবং এলাকার প্রতিটি অলিগলির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেকের সঙ্গেই তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা বিদ্যমান। সেই ভালোবাসার অধিকার থেকেই তিনি আগামী দিনে সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে যারা দেশের কল্যাণ চান এবং এই ঢাকা-৯ আসনের উন্নয়ন দেখতে চান, তাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালনা করা হবে এবং এই বাংলাদেশ শুধু একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের হবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি আগামী নির্বাচনে এই আসনে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবিগুলো কোনো শক্তিই উপেক্ষা করতে পারবে না। তিনি ৩৮ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্বচ্ছতা তুলে ধরে জানান, তার মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে থাকলে তিনি ভোটারদের কাছে ভালোবাসার দাবি নিয়ে ভোট চান।

দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার

বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বিএনপি প্রার্থী স্পষ্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোনো ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। স্বল্পমেয়াদে কেউ অসদুপায়ে লাভবান হতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের কোনো স্থান নেই। যদি দলের কোনো নেতাকর্মী সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় নাগরিকদের দীর্ঘদিনের নানা দুর্ভোগ ও নাগরিক সুবিধার অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এলাকায় উন্নত রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, পর্যাপ্ত গ্যাস ও পানির সুব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সিটি করপোরেশনের নাগরিক হিসেবে এসব মৌলিক সেবা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার স্থানীয় মানুষের রয়েছে। বিজয়ী হলে তিনি জনগণের পাশে থেকে সব সমস্যা সমাধানের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #ঢাকা