এক ঢাকা দুই অর্থনীতি: সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বদলাতে ব্যবস্থা পাল্টানোর ডাক
রাজধানী ঢাকা এবং সমগ্র দেশের তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তুলে ধরে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের তীব্র দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সম্প্রতি কাউন্দিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী পথসভায় দলের প্রবীণ ও নীতি নির্ধারণী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে এই আহ্বান জানান। তাদের মতে, বিগত ৫৪ বছরে দেশের শাসকগোষ্ঠীর ভুল নীতি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কারণে সমাজে এক বিশাল সামাজিক ফাটল তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশে একই ভূখণ্ডের ভেতর দুই ধরণের অর্থনীতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বৈষম্যমূলক সামাজিক বাস্তবতা এবং বিকল্প রাজনীতির রূপরেখা
কাউন্দিয়ার পথসভায় প্রবীণ নেতারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় সারাদেশের মতোই রাজধানী ঢাকা দুটি পৃথক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর একটি হলো অঢেল ধন-সম্পদের অধিকারী ধনিক শ্রেণীর ঢাকা এবং অন্যটি সুবিধাবঞ্চিত, খেটে খাওয়া গরিব মেহনতি মানুষের ঢাকা। “এক দেশ দুই অর্থনীতি এবং এক ঢাকা দুই অর্থনীতি—এই চরম বৈষম্যমূলক অবস্থা বদলাতে হলে বিদ্যমান ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।” কেবল ক্ষমতার পথ পরিবর্তন বা ব্যক্তি বদল করে এই অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। দেশের সুষম ও স্থায়ী টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের সর্বপ্রধান দাবি। একমাত্র সিপিবি-র পক্ষেই দুর্নীতি ও লুটপাটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
স্থানীয় জনদুর্ভোগ ও এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা
ঢাকা-১৪ আসনে সিপিবি সমর্থিত প্রার্থী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখার সময় এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট সামাজিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, কাউন্দিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নাগরিক সুবিধা ও মৌলিক অবকাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত একটি অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়ে আছে। মূল রাজধানীর সঙ্গে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অবিলম্বে একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া পুরো এলাকায় কোনো মানসম্মত চিকিৎসাকেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতাল না থাকায় জরুরি মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়।
আসন্ন নির্বাচনে জনরায়ে নির্বাচিত হলে এই অবহেলিত জনপদের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনগণের পাশে থেকে তাদের প্রতিদিনের মৌলিক সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বক্তারা কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
ব্যাপক গণসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা ও ভবিষ্যতের বার্তা
পথসভা শেষে সিপিবি-র বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কাউন্দিয়া এলাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার অভিযান পরিচালনা করেন। তারা সর্বস্তরের মেহনতি জনগণের কাছে কাস্তে মার্কার সাম্য ও ন্যায়বিচারের রাজনৈতিক ভাবাদর্শ পৌঁছে দেন এবং এলাকার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া লাভ করেন। প্রার্থীরা জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #নির্বাচন #সিপিবি