শহীদ নাইমা তাসনিমের পরিবারের পাশে এনসিপির সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু
শপথগ্রহণের ঠিক পরদিনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নাইমা তাসনিমের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এনসিপি-র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। সোমবার বিকেলে তিনি সরাসরি শহীদ নাইমার নিজ বাসভবনে উপস্থিত হন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান। এ সময় শহীদ নাইমার মা তার প্রিয় কন্যার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করার পাশাপাশি দেশ সংস্কারের প্রক্রিয়ায় নিজের তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেন। সংসদ সদস্য শহীদ পরিবারের প্রতিটি দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
শহীদ পরিবারের দাবি ও দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি
সাক্ষাৎকালে নাইমার মা অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার নির্দোষ মেয়েকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি তার ন্যায়বিচার চাই। রক্ত দিয়ে অর্জিত এই দেশের সর্বস্তরে দ্রুত সংস্কার দেখতে চাই।” ডা. মাহমুদা মিতু শহীদ পরিবারের এই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সরকার এবং তার দল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদের অবদান রাষ্ট্র ও জনগণ চিরকাল স্মরণে রাখবে।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সহযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। ডা. মিতু শহীদ পরিবারের পাশে সর্বদা থাকার আশ্বাস দেন এবং যেকোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তায় এগিয়ে আসার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম কিংবা প্রিয় সদস্যকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কারও জানা ছিল না। তবে ডা. মিতুর উপস্থিতি শহীদ পরিবারকে কিছুটা আশার আলো দেখায়।
দেশ সংস্কারের নতুন দিগন্ত ও এনসিপির অবস্থান
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কেবল সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের রূপরেখা। ডা. মাহমুদা মিতু জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণদের রক্ত বিফলে যেতে দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিন থেকেই তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজে নিজেকে নিবেদিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বৈষম্য দূর করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। শহীদ নাইমা তাসনিমের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নতুন আইনপ্রণেতারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতীয় ঐক্য ও জুলাই বিপ্লবের মর্যাদা রক্ষা
তিনি আরও যোগ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগই বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। কোনো অপশক্তি যেন আন্দোলন ও শহীদের স্বপ্নকে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন।
পরিশেষে, সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে ডা. মিতু জানান যে, সংসদ অধিবেশনে শহীদ নাইমাসহ জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদের স্মৃতি রক্ষা ও স্বজনদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হবে। পুরো এলাকায় এই সাক্ষাৎ ইতিবাচক আলোড়ন তৈরি করেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জুলাইবিপ্লব