তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ও ঐতিহাসিক স্বাগতম

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করার পর অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে আসছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান এই শীর্ষ নেতা। তার এই বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক আগমনকে অত্যন্ত উৎসবমুখর, স্মরণীয় এবং সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার জন্য দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং গভীর প্রত্যাশার সঞ্চার ঘটেছে।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের নীতি নির্ধারণী স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ খবর নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিনের নির্ধারিত নানা কর্মসূচি ও সফরসূচির বিশদ বিবরণ গণমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপস্থাপন করা হয়।

২৫ ডিসেম্বরের অভ্যর্থনা, জনসমাবেশ ও পারিবারিক কর্মসূচি

ঘোষিত সময়সূচি ও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৫ ডিসেম্বর সকালে তারেক রহমান সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এসে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর এলাকায় সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরপরই তিনি সরাসরি পূর্বনির্ধারিত তিনশো ফিট বিশেষ সংবর্ধনা এলাকায় গমন করবেন। সেখানে লাখ লাখ নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে আয়োজিত এক সুবিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন এবং উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করবেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তিনিই হবেন একমাত্র প্রধান বক্তা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি কালবিলম্ব না করে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন তার অসুস্থ মা ও দলের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় এবং শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার পর তিনি নিজের পারিবারিক বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা নিবেদন, নাগরিক দায়িত্ব ও চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিন অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার পবিত্র বাদ জুমা তারেক রহমান পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে তার প্রয়াত বাবা তথা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করবেন। পরবর্তীতে তিনি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ গমন করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এর পরদিন ২৭ ডিসেম্বর সকালে তারেক রহমান একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আবেদন জমা দেবেন। নাগরিক দায়িত্ব পালনের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বটি শেষ করার পর তিনি শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে যাবেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করবেন। এরপর তিনি সরাসরি পঙ্গু হাসপাতাল-এ গিয়ে জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বীর যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাবেন।

গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা

তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক ইতিবাচক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তার উপস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তার নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম আরও সুসংগঠিত ও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

#তারেক_রহমান #বিএনপি #বাংলাদেশ #রাজনীতি #স্বদেশ_প্রত্যাবর্তন