শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ ও ব্লগার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি: বাম দলগুলোর প্রকাশ্যে ক্ষমার আহ্বান
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং একই সময়ে ঘটে যাওয়া ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, উক্ত শাপলা গণহত্যার বিভ্রান্তিকর ও সুবিধাজনক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তাই ঐতিহাসিক ভুল ও ভূমিকার জন্য সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র ফ্রন্ট-কে দেশের সাধারণ ও অগণিত আপামর জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি শাহবাগে শাপলা গণহত্যা দিবস স্মরণে আয়োজিত ‘সাদা পাঞ্জাবির মিছিল’ পূর্ববর্তী এক সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক পথসভায় জেডিপি-র শীর্ষ আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এসব মৌলিক বক্তব্য ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি উপস্থাপন করেন।
২০১৩ সালের ঘটনাপ্রবাহ, গণজাগরণ মঞ্চ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পটভূমি
সমাবেশে বক্তব্যে নাঈম আহমাদ বলেন, ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামের নিরীহ কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড এবং ঠিক সেসময়ই ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত একাধিক ব্লগার হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সমান্তরাল বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের দীর্ঘায়িকরণ ও স্থায়িত্ব অর্জনের প্রত্যক্ষ চক্রান্ত হিসেবে রাষ্ট্রীয় মদদে শাহবাগে তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের কঠোর বিচারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যু সম্পৃক্ত থাকার কারণে দেশের অসংখ্য সাধারণ ও আপামর মানুষ না বুঝে প্রাথমিকভাবে সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তা পরিকল্পিতভাবে চরম ইসলামবিদ্বেষ এবং উগ্র ফ্যাসিবাদপন্থি আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ লাভ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক ও সামাজিক এই বিরূপ প্রেক্ষাপটে অগণিত ধর্মপ্রাণ ও বৈষম্যবিরোধী নাগরিক শাপলা চত্বরে ন্যায়বিচারের আশায় জমায়েত হয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন শাসকমহল সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ও নির্মম অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের ওপর নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চলায়। সেই অবিচারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা ঘটে এবং দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অভূতপূর্ব পরিবর্তন সূচিত হয়।
ব্লগার হত্যার পুনর্নবীকরণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর তাগিদ
তৎকালীন গণজাগরণ মঞ্চের বিতর্কিত মুখপাত্রকে ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ হিসেবে অভিযুক্ত করে জেডিপি আহ্বায়ক বলেন, তৎকালীন শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নীতিপ্রণেতাও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। একাধিক বামপন্থি দল ও শেখ হাসিনার তৎকালীন রাজনৈতিক মিত্রদের নগ্ন সহযোগিতার কারণেই দেশে দীর্ঘস্থায়ী এক বিভীষিকাময় ও চরম ফ্যাসিবাদী শাসন টিকে থাকা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শুধু শাপলা চত্বরের গণহত্যাই নয়, বরং ওই সময়কালে নিহত সকল ব্লগারদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। অতীতে ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকাণ্ডে চটজলদি বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিভ্রান্তিকর অভিযোগ আনা হলেও সেগুলোর পুনরায় নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ তৎকালীন সরকারের আমলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অসংখ্য সাজানো নাটক ও ভুয়া প্রচারণা চালানো হয়েছিল, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শাপলা_গণহত্যা #বিচার_দাবি