শিক্ষা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের ইশতেহার ঘোষণা: জামায়াতের বড় প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও বেতন-ভাতার বৈষম্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই দুই সংকট নিরসনে বড় ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি বনানীর এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেন। ঘোষিত ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো সংস্কার
ইশতেহার অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সর্বপ্রকার দুর্নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করতে পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে। জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে সব স্তরের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে উচ্চতর গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক দিকনির্দেশনার জন্য প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে।
বাজেট বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা
শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রের অর্থায়ন বাড়াতে জিডিপির ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে তাদের প্রথম দুই সেমিস্টারের ফি সরকার সম্পূর্ণ বিনা-সুদে ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। এছাড়া জাকাত পাওয়ার যোগ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা হারে আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ের এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য “কর্জে হাসানা” বা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে।
পাঠ্যক্রম একীকরণ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় সাধারণ, আলিয়া, কওমি এবং ইংরেজি মাধ্যমসহ সব ধারার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে বাংলা, বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও ইংরেজি বিষয়ে অভিন্ন পাঠ্যবস্তু প্রণয়ন করা হবে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও শিক্ষাদানমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হবে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিদেশে পড়ালেখা করতে পারে, সেজন্য বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরকারি সমঝোতা চুক্তি করা হবে। পাশাপাশি মেধাপাচার রোধে দেওয়া হবে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা।
নারী শিক্ষা প্রসার ও দেশের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয়
বর্তমানে দেশে নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এই সুবিধা স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। অর্থাৎ সব নারী শিক্ষার্থী স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাবেন। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে নারীদের সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন। ইশতেহারে আরও বলা হয়, বিখ্যাত ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এছাড়া শিক্ষাঙ্গনগুলোকে নিপীড়নমুক্ত ও সবার জন্য নিরাপদ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
#শিক্ষা #বাংলাদেশ #নির্বাচনী_ইশতেহার #রাজনীতি