অনলাইন আসক্তি দূর করতে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ: তারেক রহমান

ঢাকা-র গুলশান এলাকায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জানান, দেশের ছোটদের অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক সংস্কার প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার দলের। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দদায়ক শিখন প্রক্রিয়া, যা কোনোভাবেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিকভাবে অতিরিক্ত চাপ হিসেবে সৃষ্টি হবে না।

শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা

রাজধানীর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্মের বিজয়ীদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিতে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর পড়াশোনাই যথেষ্ট হবে না। নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চাকে বাধ্যতামূলক করার জোরালো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে খেলাধুলার ওপর বিশেষ নম্বর থাকবে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি হবে। শিশুরা যদি নিজেদের দৈনন্দিন সময় বিভিন্ন সৃজনশীল ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করতে পারে, তবে তারা অতিরিক্ত ডিভাইসের আসক্তি থেকে মুক্ত থাকবে এবং গঠনমূলক পথে অগ্রসর হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা, নৈতিকতা এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়ন

প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মান বৃদ্ধি সম্পর্কে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, কেবল চোখধাঁধানো ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। তার মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং মানসিক উদ্দীপনা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের মধ্যে “ভালো ও মন্দের বোধ” সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে সমাজে বিদ্যমান নানাবিধ অবক্ষয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস মব সংস্কৃতির মতো জটিল সমস্যাগুলো সহজেই অনেকাংশে নির্মূল করা সক্ষম হবে।

তরুণদের ভাবনা ও নতুন দেশের রূপরেখা

এই বর্ণাঢ্য মতবিনিময় আয়োজনে তারেক রহমানের পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ প্রতিযোগীরা শিক্ষা, প্রযুক্তি, সমাজ সংস্কার এবং দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন সৃজনশীল ধারণা প্রকাশ করেন। বিএনপির বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত দেশব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা থেকে সারা দেশের প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারক এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ তরুণদের জাতীয় উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

#শিক্ষা #বাংলাদেশ #রাজনীতি #শিক্ষাব্যবস্থা #তরুণসমাজ