শিশু-কিশোরদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সঠিক ইতিহাস চর্চা জরুরি: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের সামনে নিজেদের সঠিক সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ সাহিত্য এবং প্রকৃত ইতিহাস বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, শিশু-কিশোররাই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ভবিষ্যৎ এবং তাদের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সমাজের সব স্তরের মানুষের নাগরিক দায়িত্ব। জাতীয় প্রেস ক্লাব সংলগ্ন আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক বিশেষ ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চরম দলীয়করণের কারণে নানাভাবে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, যার ফলে সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হয়েছে। এই ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নিতে বর্তমান সময়ে কোমলমতি শিশুদের সামনে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্যগুলো উপস্থাপন করা সময়ের বড় দাবি। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দেশের সব ক্ষেত্রে বিরাজমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কঠোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই নতুন সরকারকে নগর ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাসযোগ্য ঢাকা ও পরিবেশ উন্নয়নের রূপরেখা
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রশাসক বলেন, সুবিশাল ঢাকা মহানগরের পরিবেশকে বসবাস উপযোগী করতে কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নগরীর সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিপজ্জনক মশার উপদ্রব কার্যকরভাবে কমানোর ক্ষেত্রে সম্মানিত নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা অত্যন্ত অপরিহার্য। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নাগরিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় খুব দ্রুতই সিটি করপোরেশনকে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমুখী ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের ভূমিকা
শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ জাতীয় শিক্ষণীয় উদ্যোগ ভবিষ্যতের তরুণ সমাজকে পথ দেখাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এ ধরণের উদ্যোগ আরও প্রসারিত হবে যা একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই একযোগে শিশু অধিকার নিশ্চিত করা এবং ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে জোর দাবি জানান।
#ঢাকা #নগর_উন্নয়ন #শিশু_কিশোর #শিক্ষা_ও_সংস্কৃতি