ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ও সমীকরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। আগামী ১২ মে এই আসনগুলোর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদে বসার সুযোগ পাওয়া ৫০ জন নারী সদস্য কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে এখন বিভিন্ন জোটে ব্যাপক আলোচনা চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে। গাণিতিক আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী তারা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার অধিকারী। তবে তাদের প্রধান জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের আসন সংখ্যা আরও একটি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক গুঞ্জন রয়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, অধিকাংশ দলই নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে শুরু করে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও জোটের প্রধান শরিকদের প্রার্থীরা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সংসদীয় আসন বণ্টন করা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী এনসিপি একটি আসনে সরাসরি প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারছে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার কারণে তাদের আরও একটি আসন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানা গেছে, আসন বণ্টনের বিষয়ে দুই দলের মধ্যে আন্তরিক আলোচনা চলছে। এনসিপি সূত্রে জানানো হয়েছে যে জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে একটি অতিরিক্ত আসন তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত দলটি দুটি সংরক্ষিত আসনে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে। “আনুপাতিক হারে এনসিপির আরেকটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই বিষয়ে সহযোগিতামূলক আলোচনা এগিয়ে চলেছে,” বলে জোটের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আসন বণ্টন ও সংসদীয় হিসাব
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদের মোট সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট পাচ্ছে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝুলিতে যাচ্ছে একটি আসন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে সংসদীয় শক্তির বিচারে বিএনপি-র ২০৮ জন, জামায়াতে ইসলামী-র ৬৮ জন, এনসিপি-র ৬ জন এবং অন্যান্য বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি রয়েছেন। আইন অনুযায়ী সংসদীয় মোট আসনকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ সংরক্ষিত আসন বের করা হয়।
এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এনসিপি-র বেশ কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেত্রী এবং প্রবীণ সংগঠকদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তবে দলের নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন দলের শীর্ষ আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। প্রার্থীরা সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছেন। শেষ পর্যন্ত কোন দুজন নারী সংসদে যাচ্ছেন তা দেখতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদগ্রীব হয়ে আছেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জাতীয়সংসদ #সংরক্ষিতআসন