সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে বিএনপি। প্রায় ৯০০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিলের আগেই দলটি তাদের সমর্থিত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সাক্ষাৎকার ও সার্বিক প্রক্রিয়া

রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈঠকে দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত পর্যালোচনা করে। প্রথম দিন রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের ৩৭৮ জন এবং শেষ দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ শতাধিক প্রার্থী এতে অংশ নেন। সাক্ষাৎকারে নারী নেত্রীরা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সবাইকে একতাবদ্ধ থেকে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। “দল যাকেই মনোনীত করবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে”—এমন অঙ্গীকার করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

নির্বাচনের সময়সূচি ও আসন বণ্টন

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনগুলোর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। পরবর্তীতে আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যৌথভাবে ১টি আসন পাবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়মে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন যারা

দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের জন্য বেশ কিছু পরিচিত ও নতুন মুখ আলোচনায় রয়েছেন। তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নেত্রীদের মূল্যায়নের বিশেষ আশ্বাস দিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড। আলোচনা সূত্রে জানা যায়, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার, সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু মনোনয়নের দৌড়ে সামনের সারিতে রয়েছেন। এছাড়া ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা ও নাদিরা চৌধুরীর নামও জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী অঙ্গন থেকেও উঠে এসেছে বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম। এদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, হাসনা জসীম উদদীন মওদুদ, এবং ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নাম আলোচনার টেবিলে রয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ও আইনজীবী নেত্রীদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম উল্লেখযোগ্য। শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মধ্য থেকেও অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, সাংবাদিক কাজী জেসিন এবং অন্যান্য পেশাজীবী নেত্রীরা সম্ভাবনার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যোগ্যতা, ত্যাগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা বিচার করেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংরক্ষিত_আসন #নির্বাচন