সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর সমালোচনা

সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় সংসদ কার্যপরিচালনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে বিএনপি একক মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই করছে। তার মতে, রাষ্ট্র যেভাবে আইন প্রণয়ন করতে চায় বা সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চায়, ঠিক সেভাবেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক গতিপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তা জনগণের জন্য মোটেই কোনো ইতিবাচক বা সুখকর বার্তা বহন করে আনছে না।

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ও গুরুত্বপূর্ণ আইনের অনুপস্থিতি

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব সংসদে পাস হওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান ও আবশ্যকীয় ছিল পুলিশ সংস্কার কমিশন। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিশনটির মূল প্রস্তাব সংসদের অধিবেশনে আলোচনার জন্যই উত্থাপন করা হয়নি। এটি জনগণের জন্য কতটা জরুরি বা এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না—তা নিয়ে বিস্তারিত ও উন্মুক্ত আলোচনার কোনো সুযোগই রাখা হয়নি। সংসদকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ইচ্ছাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

ঋণ খেলাপিদের তালিকা ও নতুন আইনের প্রভাব

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে অর্থনীতির সংকটময় দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের জন্য তিনি সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সংসদ অধিবেশনে যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পেশ করেছেন, তার মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানই একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই খেলাপি ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও ব্যাংকিং খাতে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে নতুন আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই ধরনের আইন পাস হওয়া সমগ্র বাংলাদেশ-এর জন্য একটি কালো দিন হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হবে।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাবনা

হাসনাত স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই মাসের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ করেছেন, তারা মূলত রাষ্ট্রের একটি মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের আশা নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। তবে বাস্তব চিত্র হলো, রাষ্ট্রের কোনো ধরণের কাঠামোগত সংস্কার সাধন হচ্ছে না। “সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই কোনো দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে নাই, আপনারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।” তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক সংসদ সদস্য নিজ এলাকার উন্নয়ন থমকে যাওয়ার ভয়ে কিংবা বাজেট ও প্রশাসনিক সহায়তা বন্ধের আশঙ্কায় প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করছেন।

তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করেন যে, এলাকার বাজেট কিংবা পুলিশি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা বন্ধ করে দিলেও তিনি তার অবস্থান থেকে পিছপা হবেন না। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, চূড়ান্ত বিচারে দেশের আমজনতা তাদের সুদৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের পথেই রয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংসদ #সংস্কার