জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা অভিযোগ করেছেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং বিরোধী দলের বক্তব্যকে উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি “শাহবাগের ফসল” এবং শাহবাগই তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন যে বিরোধী দল একটি সংস্কৃতিবান ও সভ্য সংসদ গঠনের চেষ্টা করছে এবং তাদের জ্যেষ্ঠ নেতারা সংসদের মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন।

বিরোধী দলের প্রতি বৈষম্য ও অর্থনৈতিক সংকট

সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি দাবি করেন যে সরকারের উন্নয়ন তহবিলগুলো বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) তাদের নিজেদের লোকদের দিচ্ছে, যেখানে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাহের দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল, সার ও বীজের সংকট চলছে। ২৭ আগস্ট সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হলেও, বিরোধী দলের চিঠির বিষয়টি এজেন্ডায় ছিল না।

জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগও করেন। সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচন একই রকম আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি গণভোট সংবিধান দ্বারা সমর্থিত না হয়, তাহলে নির্বাচন ও বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকারও সমর্থিত নয়।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতা প্রধানমন্ত্রীর “দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স” নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। এখন আমরা দেখছি জিরোটা আছে; কিন্তু তার বাঁয়ে আরও ১০০ যোগ হয়ে গেছে। তাইলে কত হয়? ১০০০ হয়। সেই হারেই দুর্নীতি চলছে।” তাহের আরও মন্তব্য করেন যে চাঁদাবাজি প্রধানমন্ত্রীর অজানা থাকার কথা নয়।

বিল পাস ও সংসদীয় স্বেচ্ছাচারিতা

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কটূক্তি করেছেন। নাহিদ ইসলাম স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের অভিযোগ আনেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ তিনটি বিল সংসদে আনা হয়েছিল। বিরোধীদলীয় নেতা বিলগুলো একসঙ্গে আনার কথা বললেও, সরকার সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পাস করিয়ে নিচ্ছে। এতে সরকারের সংসদীয় স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতন্ত্র দেখা যাচ্ছে।