কৃষি ও কৃষকের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে বিএনপির ব্যাপক নির্বাচনী পরিকল্পনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জুড়ে কৃষিখাত ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। এসব যুগান্তকারী চিন্তাভাবনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা সমৃদ্ধ লিফলেট বর্তমানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার করছেন দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। এই নির্বাচনী রূপরেখার প্রধান মূল লক্ষ্যই হলো প্রান্তিক কৃষকদের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ করা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও শোষণ সম্পূর্ণ বিলোপ করা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সকল পরিষেবা ও সুবিধা সরাসরি সাধারণ কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
কৃষক কার্ড: এক ডিজিটাল সমাধান ও বহুবিধ সুবিধা
বিএনপি-র নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রস্তাবিত রূপরেখার সবচেয়ে আধুনিক ও উল্লেখযোগ্য অংশ হলো সমন্বিত কৃষক কার্ড ব্যবস্থা চালু করা। এই বিশেষ ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি সর্বজনীন ও সুরক্ষিত ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উক্ত কার্ডের আওতায় তালিকাভুক্ত কৃষকগণ সরাসরি একাধিক মৌলিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
প্রথমত, সার, উচ্চফলনশীল বীজ এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশকের ওপর সরাসরি সরকারি ভর্তুকি প্রদান করা হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে। দ্বিতীয়ত, প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা পুরোপুরি এড়িয়ে অতি সহজ শর্তে প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণের সুব্যবস্থা করা হবে। “কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি।” তৃতীয়ত, বাজারজাতকরণে অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ প্রভাব ও শোষণ রোধ করার উদ্দেশ্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই সরকারি উদ্যোগে সময়মতো ফসল কেনাবেচা সুনিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
শস্য ও পশুপালন বিমা: আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত কৃষিব্যবস্থা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসময়ী বন্যা, খরা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে দলটি বিশেষ কৃষিবিমা চালুর বিশাল প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। কেবল প্রথাগত ফসলি জমি নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পশুপালন এবং আধুনিক মৎস্য চাষের ক্ষেত্রেও এই ব্যাপক বিমা সুবিধা কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক কৃষির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার
ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন জোরদার করার লক্ষ্যে আধুনিক কৃষি বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি কৃষকের মোবাইলে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া সম্পর্কিত পূর্বাভাস, প্রতিদিনের আপডেটেড বাজার দর এবং ফসলের নানাবিধ রোগের ডিজিটাল উপায়ে দূরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেয়ার কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। “আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হবে।”
তাছাড়া কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখা সকল ক্ষুদ্র মৎস্য চাষি এবং প্রাণিসম্পদ খামারিরাও একইভাবে এই স্মার্ট কৃষক কার্ডের সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বিতা আসবে এবং সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
#কৃষি #রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন