সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পক্ষ থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। দলটির মতে, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের অযাচিত হামলা ও লাঠিপেটার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনোভাবেই একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ঘটনার পটভূমি ও আহত সাংবাদিকদের অবস্থা
অভিযান চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের ওপর লাঠিপেটার ফলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা-র সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের খবর সংগ্রহের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে অন্তত তিন সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংবাদ সংগ্রাহকরা সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। গণমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর পুলিশের এই সহিংসতা চরম পেশাদারিত্বহীনতার পরিচয় দেয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকতা হলো জনগণের স্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশ করার একটি সম্মানিত পেশা। নির্যাতনের মাধ্যমে কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পেশাগত দায়িত্বকে কখনো দমন করা যায় না। মুক্ত গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার পরিবর্তে তাদের ওপর হামলা চালানো নাগরিকদের তথ্য অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাতের সামিল। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তা না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
সুচিকিৎসা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া আহত সাংবাদিকদের অবিলম্বে সঠিক ও উন্নত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ভবিষ্যতে যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা সহিংসতার মুখোমুখি না হন, সে ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানানো হয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করার স্বার্থে সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সাংবাদিক নির্যাতনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
#সাংবাদিকতা #বাংলাদেশ #সংবাদ #মানবাধিকার #আইন