ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জামায়াতের

দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক দলটি মনে করে, সদ্য গঠিত সরকারের এই সিদ্ধান্ত জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা এবং আমজনতার আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। দলটির তরফ থেকে এক সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে, এই ধরনের দলভিত্তিক পদায়ন নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা বিনষ্ট করবে এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

সিদ্ধান্তের পটভূমি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর—এই ছয়টি প্রধান সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি দলীয় পদধারীদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে জানান যে, নতুন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনগণের সর্বজনীন প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা অভিযোগ করেন যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া

জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ও দর্শন ছিল একটি বৈষম্যহীন, সুশাসিত এবং গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকারগুলোতে অরাজনৈতিক বা সর্বজনগ্রাহ্য উপায়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় জনগণের সরাসরি ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক নির্বাচন না দিয়ে নিজেদের দলীয় লোকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসানো নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। এটি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সুস্পষ্ট “প্রতারণার শামিল” বলে তারা অভিহিত করেন।

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্তের আশঙ্কা

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের একপেশে নিয়োগ সিদ্ধান্ত জনমনে গভীর সন্দেহ ও উদ্বেগের উদ্রেক করেছে। জামায়াত নেতাদের মতে, “সরকারের এই পদক্ষেপে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে দেওয়ার একটি সুগভীর চক্রান্ত হতে পারে।” একই সাথে এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করে আরেকটি পাতানো ও অনিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক ধাপ কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দলীয় মনোভাব ও অবাধ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে দলটি।

সর্বশেষে, তারা সরকারকে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান এবং একটি গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #সিটি_করপোরেশন #নির্বাচন