চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে দুই যুবককে মহড়া দিতে দেখা যায় এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দুই যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়।

সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট

বিএনপির দুই নেতা আসলাম চৌধুরী ও কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এই সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছেন, উভয়ই প্রতিপক্ষকে বহিরাগত সন্ত্রাসী আনার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। একই সময়ে একই ক্লাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয় পক্ষকে পৃথক সময়ে অনুষ্ঠান করার জন্য সময় বেঁধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষকে বেলা দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সকাল নয়টা থেকেই মুন স্টার ক্লাব এলাকায় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা অবস্থান নেন। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করেন। বেলা একটার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার জন্য কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করলেও, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের পদক্ষেপ ও নেতাদের বক্তব্য

ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার প্রতিবাদে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের দুটি লেন আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এই অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, ‘অস্ত্রধারী একজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অস্ত্রধারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর নিশ্চিত করেছেন যে, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন এবং পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল মুন স্টার ক্লাবে অবস্থান নেন এবং তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন। তিনি বলেন, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে কর্মসূচি শুরু করেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাদের নেতা-কর্মীরা কোথাও কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা হামলা করেননি। উল্টো সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।