কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের তীব্র নিন্দা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
ঘটনার পটভূমি ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত
প্রকাশিত বিবৃতির তথ্যমতে, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের এক এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন এবং একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীর হোসেনকে বিএসএফের সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। নিহতরা সীমান্ত এলাকায় নিজ নিজ দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই অমানবিক এই গুলিবর্ষণের শিকার হন। জামায়াত নেতৃবৃন্দ সীমান্ত রক্ষীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন আগ্রাসী আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও শোক প্রকাশ
বিবৃতিতে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। শোকাকুল পরিবারগুলো যেন এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সয়ে নেয়ার শক্তি লাভ করতে পারে, সে জন্য মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়। নিহতদের নিরপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে দলীয় নেতৃবৃন্দ বলেন যে, সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এভাবে গুলিবর্ষণ কোনো আন্তর্জাতিক আইনের পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তার সংকট
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অব্যাহতভাবে বিনা কারণে নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড “শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার” বিষয়ে বারবার চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না; বরং সীমান্ত এলাকায় হত্যার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যমান সরকারের অত্যন্ত দুর্বল পররাষ্ট্র নীতি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতিনিয়ত এই ধরনের অন্যায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অপকর্মে সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুনির্দিষ্ট বিচারে অনীহা এবং প্রতিবেশীর সাথে ভারসাম্যহীন সম্পর্কের কারণে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বারবার ঘটছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
সুষ্ঠু তদন্ত ও আন্তর্জাতিক বিচার চাওয়ার আহ্বান
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়, বাংলাদেশ সব সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও বন্ধুসুলভ আচরণ আশা করে। তবে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ প্রতিবেশিসুলভ আচরণের পরিপন্থী। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নথিভুক্ত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয় যেন নিহত মুরসালিন ও নবী হোসেনসহ অদ্যাবধি সংঘটিত সব সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি দায়ী বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
#সীমান্ত_হত্যা #বাংলাদেশ #কসবা #বিএসএফ #জামায়াত