আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। গত দুই মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ইউনিয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) নেতাদের এই পদে বসানো হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন সরকার চলতি বছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার কথা বলছে এবং নির্বাচন কমিশনও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে যে ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩১টি পুরোনো এবং ৭টি নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদ। এই নিয়োগের ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যখন নির্বাচন আসন্ন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রশাসক নিয়োগে আইনগত কোনো বাধা নেই। প্রশাসক নিয়োগের কারণ ও প্রক্রিয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৮টি। গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা ৩১১টি। ৪ হাজার ২৩৭টি ইউনিয়নে মেয়াদ শেষ না হওয়ায় নির্বাচন করা যাবে না এবং ৪০টি ইউনিয়নে মামলা চলমান রয়েছে। সরকার চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১৭ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসক বসানোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রশাসকের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই তালিকায় ব্যক্তির নাম থাকে, তাই কে সরকারি কর্মকর্তা আর কে রাজনৈতিক দলের নেতা, তা জানার সুযোগ থাকে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে যখন বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতাদের নিয়োগ ও বিতর্ক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তখন অনেক জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রশাসক বসানো হয়, তবে তখন দলীয় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার কিছু ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতারা আরও ইউনিয়নে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর চেষ্টা করছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বিএনপি দলীয় নেতাদের এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে ১১টি সিটি করপোরেশন, ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ৮টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে গত মাসে ফারুক হোসেন খোকনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি বেতাগী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পান এবাদুল হক, যিনি উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং বাউশিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গত ১৯ জুলাই বিএনপির নেতা মো. নূরনবী ভুঁইয়াকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: কোথাও সরকারি কর্মকর্তা, কোথাও বিএনপি নেতা
by Bangladesh Politics | Sep 1, 2026 | বরিশাল, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ জামাত ইসলামী দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি