জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই ঘোষণা দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজনকে দেশের জনসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে জরুরি বলে আখ্যা দেন।
বিক্ষোভের সময় ও স্থান
এনসিপি জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি, ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। দলজন বলেন, এই কর্মসূচি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত কার্যকর করার দাবির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের কারণ ও দলের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে এবং সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজনকে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং প্রশাসনিক সংকট নিরসনের একমাত্র সমাধান বলে দাবি করেন।
উক্ত সম্মেলনে দলটি আদালত সম্পর্কিত একটি মামলাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আখতার হোসেনের মন্তব্য অনুযায়ী, ‘‘ইশরাক হোসেন বনাম শেখ ফজলে নূর তাপস গং’’ মামলাটিকে নজির হিসেবে নিয়ে সারাদেশে অবৈধ নির্বাচনের প্রার্থীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি দাবি
আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে অনতিবিলম্বে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানান। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে সহায়ক হবে।
একই সময়ে তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে বলা হয় যে, ফ্যাসিবাদী আইনে গঠিত উপস্থিত পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম নয়—এমনই প্রতীয়মান হচ্ছে। এগুলো সবই তার অভিযোগ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
অন্যান্য সম্পর্কিত তথ্য এবং সমাপ্তি
সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং অভিযোগগুলো সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সময় ও স্থানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এনসিপি তাদের কথায় স্থানীয় জনগণের সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন দ্রুত আয়োজিত দেখা চাইছে এবং আদালতের উদাহরণ হিসেবে উত্থাপিত পরিস্থিতি সমাধানে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা বার বার তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বিক্ষোভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি পূরণে সমর্থন ও চাপ সৃষ্টি করতে চায়।