স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট রেখার দোসররাই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ দেখানোর উদ্দেশ্যে দেশে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন এবং বলেন যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলছে।
সভায় পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার মতো ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য
মন্ত্রী সভায় জ্বালানি ও সারসহ চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন যে প্রথমে জ্বালানিসংকট তৈরি করে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছিল এবং এ কাজে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল। মন্ত্রী জানান, ‘‘তারা প্রথমে জ্বালানিসংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চেয়েছিল। তাদের একটি মোটরসাইকেলের চক্র ছিল, যারা সারা দিন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে তেল নিত। এটি বোঝার পরে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে জ্বালানি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’’
সারের কৃত্রিম সংকট এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা
সারের সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়েও মন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের তুলনায় গত বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে, তবে একটি মহল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করেছিল এবং এখনো আংশিক সমস্যা রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে কৃত্রিম সারের সংকট সৃষ্টি করেছিল যারা, তাদের বাদ দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নিয়ে সভা করেন।’’
সমস্যার সমাধান হিসেবে মন্ত্রী বলেন দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য শক্তি পরিকল্পনা
মন্ত্রী অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এবং জানান যে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা দ্রুত সমাধান করতে কাজ চলছে। তিনি বলেন আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশের ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর জন্য অতি উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা হয়েছে।
এছাড়া তিনি সরকারের তিন বছরের পরিকল্পনার কথা জানান, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ। মন্ত্রী বলেন জামালপুর ও হবিগঞ্জে অক্রিশি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলমান এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোলার থেকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত সংক্রান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রী জানান সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং এ লক্ষ্যে ৪২,৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং নারীদের ক্যান্সারের মতো রোগ নির্ণয়ে সুবিধা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে খাদ্যমন্ত্রী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নূরতাজ আলম বাহারসহ জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত তথ্য এবং মন্ত্রীর ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অস্থিরতা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সেবা সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।