‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি: জামায়াত আমিরের বক্তব্য

পুরান ঢাকা-র ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী দিনের নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি এবং ‘না’ ভোট মানে গোলামি। সমাবেশ থেকে দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তার দল ক্ষমতায় এলে কোনো বেকার ভাতা প্রদান করবে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও বেকার ভাতা না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াত প্রধান বলেন, নগদ ভাতা প্রদান করলে যুবসমাজের কর্মস্পৃহা নষ্ট হয় এবং বেকারত্ব কমার বদলে আরও বৃদ্ধি পায়। ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম্মানজনক কাজের সুযোগ তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণ সমাজের সুসংগঠিত শক্তির ওপর ভর করেই দেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সেই রূপকল্প বাস্তবায়নে যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী প্রচারণা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি

রোববার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে এই সুবিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। জোহরের নামাজের পরপরই পুরান ঢাকা-র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সুসজ্জিত ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে মাঠে সমবেত হতে থাকেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতারা পর্যায়ক্রমে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির দীর্ঘ ভাষণে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিগত শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “গত ৫৪ বছরে যারা সরকার পরিচালনা করেছে, তারা দেশের সাধারণ মানুষের আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হয়নি।” সমাজে কাঙ্ক্ষিত বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ হতাশ হয়ে মাদকের ভয়াবহ ছায়া ও নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ প্রজন্মের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রীয় পরিচালনার সুযোগ পেলে সমগ্র বাংলাদেশ-কে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে, যা নিয়ে প্রতিটি নাগরিক গর্ববোধ করতে পারবে।

তিনি আরও অঙ্গীকার করেন যে, নতুন শাসনব্যবস্থায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা প্রশাসনিক অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে ভোট রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনগণকে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষায় ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ যদি অবৈধভাবে ভোট দখল করতে আসে, তবে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” বক্তব্য প্রদান শেষে আমির দলীয় প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা-৮ আসনের জোটপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জোট নেতাদের আহ্বান

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের নোংরা রাজনীতি পরিহার করে কাজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি এক নতুন ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টি-র প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের মূল চাবিকাঠি এখন সাধারণ জনগণের হাতে রয়েছে।” দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচারী শাসনের চিরতরে অবসান ঘটানোর জন্য তিনি জনগণের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা কায়েম করা হবে। তিনি কোনো দালালকে ভোট না দিয়ে নীতিবান প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নির্বাচন