দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশাল মহাসমাবেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাণিজ্যিক রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভাবনীয় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববারের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি এখন একদম শেষ পর্যায়ে।

পলোগ্রাউন্ড মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও প্রস্তুতি

মহাসমাবেশ সফল করতে প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই সুবিশাল আধুনিক মঞ্চ নির্মাণ, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক আলোকসজ্জার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে মাঠজুড়ে সারিবদ্ধ চেয়ার স্থাপন, শক্ত ব্যারিকেড নির্মাণ এবং লক্ষাধিক মানুষের সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সুনির্দিষ্ট করার কাজ চলছে। আগত বিশাল জনসমুদ্রের সার্বিক স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় পর্যাপ্ত অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণসহ পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ

ঐতিহাসিক এই বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে সিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত দুই দিন পুরো মহানগর এলাকায় সব ধরণের অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন এবং অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভিআইপি নিরাপত্তা এবং সুনির্দিষ্ট আসন বিন্যাস

বিএনপি-র নিজস্ব পেশাদার নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) ইতোমধ্যে সমাবেশস্থলের মূল নিরাপত্তার তদারকি শুরু করেছে। মঞ্চের ঠিক সামনের অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখে নারী সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পৃথক সুরক্ষিত জোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল মাঠজুড়ে সাধারণ নেতাকর্মী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সমর্থকদের জনস্রোতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পলোগ্রাউন্ডের এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।

একদিনে একাধিক জেলা সফর ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন সন্ধ্যায় বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে নৈশযাপন করবেন তারেক রহমান। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে বক্তব্য প্রদান শেষে বিকেলে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। পথিমধ্যে ফেনী, কুমিল্লা, দাউদকান্দি এবং শেষপ্রান্তে নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ মাঠগুলোতে একাধিক ধারাবাহিক পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। শেষ গভীর রাতে ঢাকা গুলশানের বাসভবনে ফিরে এই দীর্ঘ জনসংযোগ সফর সমাপ্ত করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে থাকাকালে তিনি চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ পদে থেকে তার এই সফরকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। “দুই দশকের এই সফর দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও নির্বাচনি হাওয়া নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে” বলে তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #নির্বাচন #বিএনপি