জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন জোট এনসিপির জন্য আত্মঘাতী: রিফাত রশিদ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সঙ্গে জোট গঠনকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র জন্য একটি অত্যন্ত আত্মঘাতী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক নিবন্ধে সতর্ক করে বলেছেন যে, মাত্র ৩০টি আসনের বিনিময়ে এই রাজনৈতিক জোটে যোগদান করলে নতুন দলটি নানাবিধ দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি হবে এবং এর নিজস্ব রাজনৈতিক সত্তা চিরতরে বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

আসন সমঝোতা ও অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সংকট

রিফাত রশিদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি কোনো সাধারণ আসন সমঝোতা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনি জোট। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হলে দলের নমিনেশনের বাইরে গিয়ে অন্য কারো স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে না। এনসিপি ইতোমধ্যে প্রায় ১২৫টি আসনে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে এবং ওই সকল প্রার্থীরা নিজ নিজ অঞ্চলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন যদি তাদের মধ্য থেকে মাত্র ৩০ জন প্রার্থীকে জোটে জায়গা দেওয়া হয়, তবে বঞ্চিত বাকি প্রার্থীরা বিদ্রোহী হয়ে উঠবেন। এর ফলে দলের তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্পূর্ণ ধসে পড়বে এবং দলটি একাধিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।

স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষুণ্ন

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি গুঞ্জন প্রচলিত ছিল যে দলটি অন্য একটি রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এখন যদি নির্বাচনি আসন সমঝোতা অতিক্রম করে সরাসরি জোটে জড়িয়ে পড়ে, তবে বাজারে থাকা সেই অপপ্রচার চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আর কখনোই এই দুই দলকে পৃথক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করবে না। “জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং তার আদর্শিক রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হবে,” মন্তব্য করে তিনি জানান, মানুষ তখন এই দলের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আলাপকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক ভণ্ডামি বা স্ট্যান্ডবাজি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করবে।

নেতৃত্বের সংকট ও আদর্শিক বিচ্যুতি

দলের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে রিফাত বলেন, দলটির একটি বৃহৎ অংশ অসাম্প্রদায়িক, বামপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতির সমর্থক। জোটের আসন বণ্টনে এসব নেতারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। একই সাথে তাদের ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিভিন্ন শিক্ষা ক্যাম্পাসে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে।

এর পাশাপাশি, অতীত ও বর্তমান নানা রাজনৈতিক বিতর্কের ঐতিহাসিক দায় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠী সংক্রান্ত অবস্থানের কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক নীতির প্রভাব এনসিপির ওপর এসে পড়বে। এর ফলে এনসিপি কর্তৃক প্রস্তাবিত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বয়ান চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে এবং দলের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বাংলামোটর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অপরাপর রাজনৈতিক আস্তানায় চলে যাবে।

ভবিষ্যৎ পথচলা ও নির্বাচনী কৌশল

সংকট উত্তরণে রিফাত রশিদ পরামর্শ দেন যে, এনসিপি-র উচিত সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অথবা জামায়াতের সাথে কেবল নির্বাচনি আসন সমঝোতায় সীমাবদ্ধ থাকা। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ-জুড়ে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করলেও দলটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জনসমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি মজবুত করবে। তবে পূর্ণাঙ্গ জোট গঠন করলে দলটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #এনসিপি #নির্বাচন