আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী দলগুলোর জোটে জটিলতা: শঙ্কা ও দরকষাকষি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমমনা ৮টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম অস্বস্তি ও দ্বিমত তৈরি হয়েছে। যৌথ আন্দোলন ও বেশ কয়েকটি সফল রাজনৈতিক কর্মসূচির পর সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও আসন বণ্টনের বিষয়টি চুড়ান্ত করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও সক্ষমতা বিবেচনায় অধিক আসন প্রত্যাশা করায় শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা ও ঐক্য টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে। ক্ষেত্রবিশেষে কাক্সিক্ষত আসন না পেলে কয়েকটি দল পৃথকভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
আসন নিয়ে চরম দরকষাকষি ও অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি
জোট সূত্রে জানা গেছে, গত নভেম্বরের শেষভাগ থেকেই প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সমঝোতা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫০টি আসনের তালিকা জমা দিয়েছে, যদিও তারা অন্তত ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫০টি, খেলাফত মজলিস ৩০টি এবং খেলাফত আন্দোলন ২৫টি আসনের দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি জোটের আলোচনা চলমান থাকা অবস্থাতেই নতুন কিছু রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ৩০০টি আসনের চূড়ান্ত সমন্বয় সাধন আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।
নেতৃবৃন্দের মতে, একটি নির্বাচনী জোটে একাধিক দল সমন্বিত হলে প্রত্যাশার চাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর মহাসচিব জানিয়েছেন, “আমাদের দলগুলোর ন্যায্য প্রাপ্য ও আত্মসম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বর্তমানে যে প্রস্তাবগুলো আসছে তা চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আমরা আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সমাধানের আশা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জোটে তুলনামূলক বড় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী-কে আরও উদার মানসিকতা প্রদর্শন করতে হবে।
জামায়াতের অবস্থান ও চরমোনাইয়ের ভিন্ন চিন্তার ইঙ্গিত
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী-র দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেই ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলের নেতারা প্রতিটি আসনেই সার্বিক নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন। তবুও জাতীয় ঐক্য ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে বসিয়ে দিয়ে জোট সঙ্গীদের আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।
একলা চলার শঙ্কা ও জোটের ভবিষ্যৎ
তবে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আভাস দিয়েছে। দলের সহকারী মহাসচিব স্পষ্ট করেছেন, “আমাদের ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার পূর্ণ সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কোনো অবস্থাতেই বিএনপি-র সঙ্গে জোট করব না। জামায়াতের সঙ্গে যদি এই সমঝোতা ভেঙেও যায়, তবে আমরা পৃথক ইসলামী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ পর্যন্ত এই দরকষাকষি অব্যাহত থাকবে। শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্য বক্তব্যে এখনো সমঝোতার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই বলে দেবে এই ৮ দলের জোট কতটুকু সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #ইসলামীদল