স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-এর অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেত্রী ড. দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য শর্তসাপেক্ষ প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার স্বামী সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হঠাৎ প্রয়াণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এই মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে নির্ধারিত কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতার সাথে সাময়িক মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়।

আবেদন ও মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীপু মনির মেয়ে তানি দীপাবলি গত বুধবার কারাগারে গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করেন। পরবর্তীতে তিনি তার পিতার শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মায়ের উপস্থিতি চেয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে চার দিনের প্যারোলের জন্য লিখিত আবেদন জমা দেন। জেলা প্রশাসন সার্বিক পর্যালোচনা শেষে মানবিক দিক বিবেচনা করে ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বিশেষ পুলিশ পাহারায় গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল গণমাধ্যমকে জানান যে, প্যারোলে মুক্তির পর তাকে সরাসরি রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় অবস্থিত বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বাড়িটি তাদের পারিবারিক স্মৃতিবিজরীত একটি স্থান, যেখানে তাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। সেখানেই প্রয়াত ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ সর্বসাধারণ ও স্বজনদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য রাখা হয়। আইনজীবী আরও নিশ্চিত করেন যে, “প্যারোলের পুরোটা সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ তার সাথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন।”

জানাজা ও দাফনের স্থান নির্বাচন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ রাজধানীর গুলশান এলাকার ঐতিহাসিক আজাদ মসজিদে আয়োজন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সকল ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম মেনে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়গণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হন দীপু মনি। পরবর্তী সময়ে ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছিলেন। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই প্রথম তিনি পারিবারিক শোকাবহ পরিস্থিতিতে সাময়িক সময়ের জন্য কারাগারের বাইরে আসার অনুমতি পেলেন। নির্ধারিত প্যারোলের সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাকে পুনরায় কারাফাটকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #আইন