শাপলা চত্বরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না: জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি
ঢাকা-র জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে চরম নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। সেদিন সব বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে প্রায় দুই লাখ গোলাবারুদ ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ভয়াবহ ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী সরকার ইসলামপ্রিয় জনগণের ওপর এক নির্মম নির্যাতন ও ক্র্যাকডাউন চালিয়েছিল।
তদন্তের অগ্রগতি ও গণহত্যার অভিযোগ
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে সেখানে কেউ মারা যায়নি এবং উপস্থিতি সবাই গায়ে লাল রং মেখে শুয়ে ছিল। তবে সত্যকে কখনো ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ঘটনার বিচার কাজ পুরোদমে চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭২ জনেরও বেশি মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।” এছাড়া বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের কোনো সন্ধান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, সেদিন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ নিজেদের ধর্মীয় অনুভূতি, নাগরিক স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু রাজপথকে রক্তে রঞ্জিত করে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এটিকে কোনো সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি ছিল তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান
গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে অতীত ও বর্তমান সংগ্রামের এক অনন্য সংযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ২০১৩ সালের ৫ মে-র শাপলা চত্বরের ঘটনা একে অপরের থেকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়।” একটির ধারাবাহিকতায় অন্যটি সংগঠিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়ক শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে।
তিনি স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, যে মহান আদর্শ এবং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অগণিত মানুষ নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, সেই চেতনাকে আমাদের বুকে ধারণ করতে হবে। জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না এবং জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি সবাইকে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের যে কঠিন সংগ্রাম সূচিত হয়েছে, তাকে সুসংগঠিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সকল প্রকার বৈষম্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।
উক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিন্তাবিদ ও সাধারণ দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা শাপলা চত্বরের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #শাপলাচত্বর