সমাজকল্যাণমন্ত্রীর মায়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ
ঢাকা-র এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরম শ্রদ্ধেয় মা বেগম জেবুন্নেছা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই নারী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা
বেগম জেবুন্নেছার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ ও রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎক্ষণিক শোকবাণীতে মরহুমার প্রতি গভীর সম্মান জানান।
তিনি বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুর খবর আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমরা তার বিদেহী আত্মার পরম শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করি।” এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন যে, বেগম জেবুন্নেছা পেশাগত জীবনে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। একজন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সমাজ ও জাতীয় জীবনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “তিনি কেবল একজন রত্নগর্ভা মা-ই ছিলেন না, বরং একজন পরহেজগার, গুণী ও পরোপকারী নারী ছিলেন।” শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরবে কাজ করে গেছেন। তার প্রয়াণে দেশ একজন প্রকৃত মহীয়সী নারীকে হারালো, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান
মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একজন আদর্শ শিক্ষিকা হিসেবে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার নীতি-নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা সমাজের সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে।
তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে বিভিন্ন স্তরের নেতারা পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, “আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং এই কঠিন শোকে তার পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”
সর্বস্তরের মানুষের শোক ও দোয়া
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক কর্মী এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে থাকেন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা উপায়ে শোক প্রকাশ করছেন এবং পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন।
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মরহুমার অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হচ্ছে। তার বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে, যেন সৃষ্টিকর্তা তাকে পরকালে চিরশান্তি দান করেন এবং তার স্বজনদের শোক সহ্য করার অসীম শক্তি প্রদান করেন।
#বাংলাদেশ #সংবাদ #রাজনীতি #শোকবার্তা