জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এক অনির্ধারিত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে বিরোধী দলকে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। এই বিতর্কে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সংসদের কার্যসূচিতে নতুন সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিতর্কের পর নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি, কেবল চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। জুলাই সনদের প্রস্তাবনা ও বিরোধী দলের দাবি জুলাই সনদে সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধীদলীয় সদস্যদের দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দল থেকে নির্বাচনের প্রস্তাবও সনদে আছে, যা সংবিধানে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টিসহ ৩০টি দল ও জোট এই প্রস্তাবে একমত হয়েছিল। সংসদে বিরোধী দলের আসনের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ। এই হিসাবে, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির এবং সনদে সরাসরি উল্লিখিত চারটিসহ মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের পাওয়ার কথা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে গঠিত ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মধ্যে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে, যার সভাপতি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সনদের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই, সরকার চাইলে এখনই তা করতে পারে। সরকারি দলের অবস্থান ও শর্ত সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই। এজন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে হবে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যেখানে বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে বলা হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছিল এবং এবারও তা দেওয়া হয়েছে, তবে অন্য কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চায় এবং বিরোধী দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তাদের দাবি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দিতে রাজি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত অর্থাৎ সংবিধান সংশোধিত হলে সে অনুযায়ী পদ বণ্টন করা হবে। তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যদি বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়, তবে একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং আসনের অনুপাতে তাদের সভাপতি পদ দিতে সরকারি দল রাজি। বিরোধী দলের অনড় অবস্থান বিরোধী দল একটি কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্তে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার প্রস্তাবকে সঠিক মনে করে না। তারা সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে না বলে জানিয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা অংশগ্রহণ করবে না। তিনি চিফ হুইপের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দেওয়ার কথা বলেননি বলে জানান। তাহের মন্তব্য করেন যে, একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কিত হতে পারে না এবং একটি কমিটিতে যোগ দেওয়ানোর জন্য তাঁদের ওপর শর্ত আরোপ করা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশের সভাপতি পদ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।