শাপলা চত্বরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের দাবি
ঢাকা-র শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক তথ্য প্রকাশে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, সেদিনের হৃদয়বিদারক ঘটনা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব
বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী ঢাকা-র শাপলা চত্বরে ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতার ওপর যে নির্মম অভিযান চালানো হয়েছিল, তা জাতীয় ইতিহাসে এক অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেদিন নিরীহ মানুষের ওপর চালানো বলপ্রয়োগের ঘটনা জাতির বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং তা ছিল মানবতা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের পরিপন্থি এক জঘন্যতম অপরাধ।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত এই ঘটনার কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ কিংবা গ্রহণযোগ্য বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিচার না পাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে চরম ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের আপামর সাধারণ মানুষের মনে তীব্র হতাশা ও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দীর্ঘকাল ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকা কখনোই কাম্য হতে পারে না।
গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয়
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, যেকোনো একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজ নিজ মত প্রকাশ করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জাতীয় যেকোনো বিষয়ে সমাবেশ করার অধিকার সংবিধান কর্তৃক সম্পূর্ণ স্বীকৃত। কিন্তু জনগণের সেই সাংবিধানিক অধিকারকে নির্মমভাবে দমন করার উদ্দেশ্যে অযাচিত শক্তি প্রয়োগ কিংবা রক্তপাতের পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মাকে রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি রোধ করতে সত্য উদঘাটন করা এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
এই জাতীয় মানবিক বিপর্যয়ের সঠিক তদন্ত না হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে উঠে যাবে। তাই অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে শক্তিশালী একটি কমিশন গঠন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত বিচার পায় এবং দেশে ন্যায়বিচার ও শান্তির সুবাতাস ফিরে আসে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিচার