সংসদে নতুন আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: মারদিয়া মমতাজ
সংরক্ষিত নারী আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, জাতীয় সংসদে গিয়ে দেশোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন এবং সরকারের সর্বস্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান ও মূল অগ্রাধিকার। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান দেশের সার্বিক রাজনীতি, নারীদের সুরক্ষা, অনলাইন সহিংসতা, সামাজিক নানা অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিজস্ব সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের প্রদত্ত ভোটের রায়ের মাধ্যমেই তাদের দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে।
সংসদের মূল দায়িত্ব, কাজের পরিধি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করতে গিয়ে মারদিয়া মমতাজ বলেন, “সংসদে আমাদের মূল কাজ সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল। দেশের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, আইন প্রণয়নে ভূমিকা এবং মন্ত্রীদের কাজের জবাবদিহি চাওয়া—এগুলো সবই আমরা করব।” তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী দেশের আইনসভা ও সাধারণ জনগণের কাছে নিজ নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য। তাই সরকারকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের জন্য স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ কম দেওয়ার প্রচলিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সংসদ সদস্যদের প্রাথমিক কাজ সরাসরি কোনো এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা নয়। মূল দায়িত্ব হলো স্পেসিফিক দুটি বিষয়—প্রথমত, সংসদে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা এবং দ্বিতীয়ত, সংসদের অনুমতিক্রমে অন্য কোনো সংস্থাকে আইন প্রণয়নের কাজ দেওয়া। বাকিটা দলীয় পলিসি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে।
সামাজিক অপরাধ বিস্তার রোধ ও নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
দেশে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো মারাত্মক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও কঠোর শাস্তি হয় না, তখন সমাজে অপরাধীদের সাহস বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। “কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো ছত্রছায়ায় পার পেয়ে না যায়, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায় করে কেউ আশ্রয় পাবে না—এই বার্তা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে,” বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। নিজের ঘর থেকেই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনলাইন সহিংসতা, সাইবার আক্রমণ ও নারীদের রাজনৈতিক স্থান
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে তরুণী ও নারীদের বর্ধিত অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের ঐতিহাসিক অবদান থাকলেও তা যথাযথভাবে স্বীকৃত হয়নি। অধিকন্তু, রাজনীতির মাঠে নারীরা ক্রমাগত সাইবার আক্রমণ ও অনলাইন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সংরক্ষিত আসনে তার নাম প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা নোংরা অপপ্রচার ও ছবি বিকৃতির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার সহজ হাতিয়ার হিসেবে নারীদের ব্যবহার বন্ধে সরকারি দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের মানদণ্ড সম্পর্কে তিনি জানান, কেবল অর্থবিত্ত বা পারিবারিক পরিচিতি নয়, প্রার্থীর মেধা, সততা ও নেতৃত্বগুণকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মজলিশে শুরার পরামর্শে প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই প্রকৌশল ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি সংসদের নীতি নির্ধারণী ও অবকাঠামোগত আইন প্রণয়নের কমিটিতে বিশেষ অবদান রাখতে চান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-এর জনগণই ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংসদ #নারী_অধিকার