বিদ্যুৎ সংকট ও সরকারি আলটিমেটাম: প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ বিরোধী দলের
জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জের জবাবে বলেছেন যে সংকট সমাধানের পরিকল্পনা তাদের কাছে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের প্রতি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের রূপরেখা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের যে সময় বেঁধে দিয়েছেন, তা তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে জোর দিয়ে বলেন যে সমাধানের পথ তাদের জানা থাকলেও বাস্তবায়নের মূল ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের হাতে।
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে ১৫ দফা সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা
হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই এই সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনা তৈরি করে টেবিলে রাখা হয়েছে। এনসিপি-র আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যেই স্বল্পমেয়াদী অর্থাৎ ৩০ দিন, মধ্যমেয়াদী অর্থাৎ ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদী সময়ের জন্য মোট ১৫টি সুস্পষ্ট সমাধান প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবনার মধ্যে ভর্তুকি নীতি পুনর্মূল্যায়ন, সঠিক জ্বালানি পরিকল্পনা, আপৎকালীন কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং দুর্যোগ পরবর্তী রিকভারি প্ল্যান অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। সুশীল সমাজ, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা এবং জাতীয় পত্রিকাগুলোতেও এসব প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এত বিশাল আকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও সরকারের কাছে এসব তথ্য না পৌঁছানো অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি সরকারের ৬২ জন সদস্যের বিশাল টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় বিরোধীদের গঠনমূলক প্রস্তাব উপেক্ষা করার এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক উদাহরণ। বর্তমান সংকট এখন আর কেবল নীতির নীতিগত প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সরকারি টিমের সক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নতুন নীতি বাস্তবায়নের আকুল আবেদন
বিগত কয়েক মাসে প্রশাসনে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পদায়ন করার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বা মেমোরি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সরকারের কাছে উপযুক্ত কোনো ফুয়েল প্ল্যান বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত থেকে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মহেশখালী এফএসআরইউতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এতদিনেও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের উদাসীনতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের জোর দাবি
বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুততম টেকসই সমাধানের জন্য এনসিপি-র পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। এই কাঠামোর অধীনে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা রাষ্ট্রীয় কোনো ভর্তুকি ছাড়াই সরাসরি দেশের বড় ভারী শিল্প কারখানার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। বিইআরসি কেবল বিষয়টি তদারকি করবে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে জমা হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে কেবল কিছু প্রশাসনিক সময় প্রয়োজন, যা খুব সহজেই করা সম্ভব।
“একটি চর্চাকারী গণতন্ত্রে সরকার প্রধান বিরোধী দলকে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন না, বরং নিজের কাজের হিসাব দেন।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নির্ধারিত ছয় মাসের ঘড়ি সরকারের সময় গণনা করছে। যদি এই সময়ের মধ্যে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে তা হবে সরকারের সক্ষমতার চরম ব্যর্থতা। দেশবাসীকে এই চরম অন্ধকারের মুখোমুখি করার জবাবদিহিতা সরকারকেই বহন করতে হবে।
#রাজনীতি #বিদ্যুৎসংকট #বাংলাদেশ #জাতীয়সংসদ