ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে: এনসিপির দাবি

ঢাকা-র কাকরাইল-এ আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রস্তাব কীভাবে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা না করে একতরফাভাবে সংসদ পরিচালনা করেছে। তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি এভাবে নিজেদের ইচ্ছেমতো কার্যক্রম চালাতে থাকে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়াবে।

জাতীয় কনভেনশন ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের মতামত

কাকরাইল-এর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-র সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সমাপনী সেশনে তিনি সভাপতির বক্তব্য প্রদান করছিলেন। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্যানালিস্ট হিসেবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামী-র সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রধান মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টি-র সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু সহ অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভারসাম্য

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষকে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য অবিরাম সংগ্রাম করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার পরপরই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকলেও পরবর্তীতে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বললেও নির্বাচনের পর তারাও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় একটি উচ্চকক্ষ অত্যন্ত জরুরি। কারণ অতীতে দেখা গেছে, যে দলই ক্ষমতায় আসে তারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন করে নেয়। তাই সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে গণভোট-এর বিধান রাখতে হবে। এছাড়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ মুক্ত রাখতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষমতা কেবল প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে রাখা যাবে না।

সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই সনদের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যতের পথ

নাহিদ আরও বলেন, সর্বদলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিএনপি যদি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চায় তবে তা টেকসই হবে না। অতীতে জিয়াউর রহমান এই ভুল করেছিলেন, যার ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের অজুহাতে আওয়ামী লীগ-এর স্বৈরাচারী রাজনীতি ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত থেকে যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় বিশেষ নোট যুক্ত করার কারণে সনদের মূল কার্যকারিতা বিনষ্ট হতে বসেছে। ক্ষমতায় আসা দল যদি নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী দেশ চালায়, তবে ঐ ঐতিহাসিক সনদের কোনো মূল্য থাকে না। সেই কারণেই গণভোটের দাবিটি অতি গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের এই সংগ্রাম ব্যর্থ হলে জনগণকে বারবার রাজপথে নামতে হবে, যা পরিহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংসদ #সংবিধান #গণভোট