স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন যে, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী এই মন্তব্যগুলো করেন সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায়। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরে।
মশা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও সিটি করপোরেশনের ভূমিকা
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তিনি আরও জানান, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রী মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থার ওপর জোর দেন, যা মশা প্রজনন রোধে একটি মৌলিক পদক্ষেপ।
মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এই গবেষণা কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও জনসচেতনতার আহ্বান
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে একটি ইতিবাচক তথ্য দেন। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা রোগের বিস্তার রোধে অপরিহার্য।
এই জরুরি সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি এই সভায় যোগ দেন, যা সভার ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।