জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

কেরানীহাটে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সাধারণ জনগণের বহুল প্রত্যাশিত রায়কে পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে জুলাই শহীদদের পাশে সরকারকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, গত সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার অংশ হিসেবে জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বর্তমান শাসকদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সেই ঐতিহাসিক ওয়াদা পূরণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

গণভোটের রায়, গণআকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক তীব্র ক্ষোভ

শাহজাহান চৌধুরী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তার মূল দাবির স্বপক্ষে তথ্য তুলে ধরে বলেন, “দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থায় জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সচেতন নাগরিক সাম্প্রতিক গণভোটে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করেছিলেন।” তবে অতীব দুঃখজনক বিষয় হলো, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সার্বভৌম সাধারণ মানুষের এমন স্পষ্ট ও গণতান্ত্রিক রায়কে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা ও অবমূল্যায়ন করে সরকার আজ স্পষ্টত জনগণের অধিকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদ, আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণকারী এবং মারাত্মকভাবে আহতদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি সরকারকে সময়োপযোগী হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, সাধারণ মানুষের এই সুনির্দিষ্ট রায় ও মতামতকে অমান্য করলে অদূর ভবিষ্যতে এর জন্য কঠিন মাশুল গুনতে হবে।

সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, চরম বৈরী এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে তোয়াক্কা না করে সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছেন, তা মূলত বর্তমান প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অনাস্থা ও গভীর অসন্তোষের চরম বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি অবিলম্বে জনগণের এই ঐতিহাসিক গণভোটের স্পষ্ট রায়কে বাস্তব রূপ দেওয়া না হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে রাজপথের আন্দোলন আরও গণমুখী, তীব্র ও কঠোর রূপ ধারণ করবে।

ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও সংসদীয় কৌশল

কেরানীহাটের এই প্রতিবাদী ও সুসংগঠিত সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-র কেন্দ্রীয় নেতা জোবাইরুল আলম মানিক, নেজামে ইসলাম পার্টি যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নোমান উদ্দীনসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকল বক্তা সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের প্রতি জাতীয় স্বার্থে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত পালনের জোর দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে দেশের জাতীয় সংসদ-এর অভ্যন্তরে এবং রাজপথের গণসংগ্রামে একযোগে অলআউট রাজনৈতিক আন্দোলন নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখা হবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জুলাইসনদ #গণআন্দোলন