ঢাকার দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্প দুটির জন্য ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তবে, বর্তমানে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বর্ধিত ব্যয় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি বড় আর্থিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে, দেশের বাজারে ছেঁড়া ও পুরোনো টাকার আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ করা এবং নতুন নোট ছাপাতে বিলম্বকে উল্লেখ করেছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি

রাজধানী ঢাকার দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এই ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি এটি অনুমোদিত হয়, তবে মেট্রোরেল নির্মাণে মোট ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এই পরিবর্তন দেশের অবকাঠামো খাতে একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে ছেঁড়া ও পুরোনো টাকার আধিক্য

দেশের আর্থিক বাজারে বর্তমানে ছেঁড়া ও পুরোনো টাকার আধিক্য একটি উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন নকশার নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় বর্তমানে বাজারের বেশিরভাগ নোটই পুরোনো। একই সাথে, নোট ছাপানোর খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের লেনদেনে অসুবিধা সৃষ্টি করছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য নতুন নোটের সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সেমিনারের অনুমতি বাতিল

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের জন্য আয়োজিত হয়েছিল। নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) এবং বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই সেমিনারটির আয়োজন করেছিল। সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’। অনুমতি না দেওয়ায় এই আন্তর্জাতিক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক আলোচনায় এর প্রভাব নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছে।

উপরে উল্লিখিত এই তিনটি ঘটনা—ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, দেশের বাজারে ছেঁড়া ও পুরোনো টাকার আধিক্য এবং দিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সেমিনারের অনুমতি বাতিল—দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে বিভিন্ন দিক থেকে প্রভাবিত করছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাগুলোর উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।