জিয়া পরিষদের নামে ‘দোকান’ না খোলার আহ্বান: মির্জা ফখরুল

ঢাকা-র শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়া পরিষদের নামে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থে কোনো ‘দোকান’ না খোলে। সংগঠনটির প্রধান কাজ হওয়া উচিত গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের নতুন কোনো সহযোগী সংগঠনের কোনো প্রয়োজন নেই, বরং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটি বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা

স্মরণসভায় বক্তব্য প্রদানকালে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার পরিচালনায় এসে বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। “সততা ছাড়া সমাজে বা রাষ্ট্রে কোনো ভালো কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মসজিদ ও মন্দির নির্মাণের মতো পবিত্র কাজেও দুর্নীতির থাবা ছড়িয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

তদবির সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবক্ষয়

প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবক্ষয় নিয়ে আলোকপাত করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি অসুস্থ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল যেখানে কোনো তদবির ছাড়া সাধারণ কাজও সম্পন্ন হতো না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার মতো সম্মানজনক পদের জন্যও তদবির করতে দেখা গেছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত করুণ ও দুঃখজনক চিত্র।

সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক অবস্থান

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ও কঠিন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া ভালো হলেও নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এসবের অপব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সংসদের মাধ্যমে সংস্কার ও বিভ্রান্তির অবসান

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের নানা প্রস্তাবনায় বিএনপি নিজস্ব সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে দলটি একমত নয়। তার মতে, রাষ্ট্রীয় সব ধরনের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত কেবল জনগণের নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সংস্কার প্রশ্নে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যে দলটি সংস্কার চায় না, অথচ বাস্তব সত্য হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রকৃত পথিকৃৎ ছিল এই দলটিই।

অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ ও মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি

মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে অযথা তর্ক-বিতর্কে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দ্রুত পুনর্গঠন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া আবশ্যক। জাতীয় ঐক্যের সুদৃঢ় ভিত্তি ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়।

পরিশেষে ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে ইতিবাচকভাবে যুক্ত করতে হবে এবং তাদের সঠিক গণতান্ত্রিক পথে চালিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঠিক নির্দেশনা না দিলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশের রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #অর্থনীতি