ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক: বিএনপি

ঢাকা-র জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত-এর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হতে হবে সম্পূর্ণ সমমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভিত্তিতে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলাল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ-এর নিজস্ব অধিকার এবং স্বার্থসমূহ পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে হবে।

দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত ইস্যু ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা

আলোচনা সভায় আলাল জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হলে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান জটিল সংকটগুলোর সম্মানজনক সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করা এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধানের মাধ্যমেই কেবল দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক আরও বেশি মজবুত হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ‘।” এই অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গেই সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি করতে হবে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সফর নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে আলাল বলেন, এই বিষয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ধোঁয়াশা সৃষ্টির যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। তাই উপযুক্ত সময় ও সার্বিক সুযোগের সমন্বয় ঘটলে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক বিষয়াদি সম্পন্ন হলে তিনি অবশ্যই নির্ধারিত সফরে যাবেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অবদানের মূল্যায়ন

খালেদা জিয়ার অসামান্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি হচ্ছেন দেশের এক অসমাপ্ত ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মূল নায়ক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক ভিত্তি এবং ইতিহাসের সূচনা করেছিলেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক দায়িত্বের মশাল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে অর্পিত হয়েছে।

আলাল আবেগপ্লুত হয়ে আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভেতরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং মাতৃত্বের এক বিরল ও অসাধারণ সংমিশ্রণ দেখা গেছে। চরম পারিবারিক নির্যাতন, সন্তানদের ওপর অবিচার এবং নানা প্রতিকূল রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। বাংলাদেশ-এর আপামর জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি আজীবন আপসহীনভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন, যা দেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক সততার মূল পাঠ নিতে হলে তার রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা, সেলিনা সুলতানা নিশীতা, আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #পররাষ্ট্রনীতি